default-image

করোনা টিকার নিবন্ধনে শ্রমজীবী মানুষজনকে আগ্রহী ও সচেতন করতে সিলেটে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন অস্থায়ী ‘বুথ’ করে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থলের কোর্ট পয়েন্টে এই কার্যক্রম চালানো হয়। নিবন্ধন কার্যক্রমের পাশাপাশি করোনার টিকা নিতে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষজনের মধ্যে চালানো হয় প্রচারণা।

প্রায় চার ঘণ্টার এই কার্যক্রমে শতাধিক পথচলতি মানুষ টিকার নিবন্ধন বিষয়ে সচেতন হয়েছেন। এর মধ্যে ২০ জন ব্যক্তি ছাত্র ইউনিয়নের বুথে গিয়ে করোনার টিকা গ্রহণের নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

শ্রমজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে করোনা টিকার নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সচেতনতায় ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম করেছে। পর্যায়ক্রমে সিলেট নগরীর ব্যস্ত এলাকায় অস্থায়ী বুথ স্থাপন করে নিবন্ধনপ্রক্রিয়ায় সহায়তার পাশাপাশি করোনার টিকা গ্রহণে সচেতনতা প্রচার করা হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এ সময় করোনা মোকাবিলায় নানা রকম স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রচারের পাশাপাশি নিবন্ধন করতে কী কী প্রয়োজন, কীভাবে করা যায় এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো রকম অর্থ খরচ হয় না, এ বিষয়টি মাইকযোগে প্রচার করা হয়।

প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন জানায়, করোনা মহামারির শুরু থেকে সিলেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল ছাত্র ইউনিয়ন। এবার শ্রমজীবীদের করোনা ভ্যাকসিন নিবন্ধনে সহায়তায় সংগঠনটি এ কার্যক্রম শুরু করেছে। একদিকে করোনা মোকাবিলায় নানা রকম স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রচারের পাশাপাশি নিবন্ধন করতে কী কী প্রয়োজন, কীভাবে করা যায় এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো রকম অর্থ খরচ হয় না, এ বিষয়টি মাইকযোগে প্রচার করা হয়। এ প্রচারণার পাশাপাশি ছাত্র ইউনিয়ন সাংগঠনিকভাবে দেশজুড়ে এ কার্যক্রম পরিচালনার কারণও তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন
সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত মানুষকে টিকার আওতায় আনার জন্য সরকারকে বিশেষ ভূমিকা পালনের দাবি জানাচ্ছি।
নাবিল হোসেন, সিলৈট জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক

ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘করোনা টিকা কার্যক্রমের শুরু থেকেই আমরা লক্ষ করছি শ্রমজীবী মানুষের কাছে টিকা পৌঁছাচ্ছে না। সরকার যে পদ্ধতিতে টিকার নিবন্ধনব্যবস্থা করেছে, তা শ্রমজীবী, দিনমজুর মানুষের জন্য দুর্বোধ্য এবং কষ্টসাধ্য।’ শ্রমজীবী মানুষ টিকা সেবার আওতার বাইরে থাকার দায় সরকার নিচ্ছে না অভিযোগ করে আরও বলা হয়, ‘এই সময়েও সরকার তার শ্রেণিচরিত্র বজায় রেখেছে। করোনা মহামারির প্রথম দিকেও আমরা লক্ষ করেছি সরকার শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর থেকে ব্যবসায়ী, সমাজের উচ্চ শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়াতেই বেশি আগ্রহী ছিল।’

‘টিকা প্রাপ্তি সবার অধিকার’ স্লোগানে ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক ও মহানগরের সভাপতি হাছান বক্ত চৌধুরীর নেতৃত্বে নিবন্ধনে সহায়তায় প্রথম দিনের কার্যক্রম সমন্বয় করেন জেলার কোষাধ্যক্ষ মৌহাইমিনুল ইসলাম, সদস্য মিসবাউর রহমান, সন্দীপ দেব ও শ্রাবণ দাস।

সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাবিল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। তাই আমরা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নিজেদের দায়িত্ব হিসেবেই শ্রমজীবী, নিম্নবিত্তের করোনা টিকার নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছি। শ্রমজীবী ও নিম্নবিত্ত মানুষকে টিকার আওতায় আনার জন্য সরকারকে বিশেষ ভূমিকা পালনের দাবি জানাচ্ছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন