default-image

লকডাউনে শ্রমজীবী পরিবারকে ন্যূনতম ১ মাসের খাবার ও নগদ ৫ হাজার টাকা অর্থসহায়তা প্রদান এবং মধ্যবিত্তদের জন্য স্বল্প মূল্যে রেশনিং চালুর দাবিতে বগুড়ায় বাম গণতান্ত্রিক জোট সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। জোটের বগুড়া শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের সাতমাথায় ওই সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়।

সমাবেশ থেকে প্রতিদিন এক লাখ মানুষের করোনা পরীক্ষা, সবার জন্য বিনা মূল্যে করোনার চিকিৎসা ও টিকা প্রদান, নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়। সমাবেশে বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়ার সমন্বয়ক ও সিপিবি জেলা সভাপতি জিন্নাতুল ইসলাম। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাসদের জেলা সদস্যসচিব সাইফুজ্জামান টুটুল। বক্তব্য দেন বাসদের জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়কারী আবদুর রশিদ, সিপিবির জেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ, বাসদের জেলা সদস্য মাসুদ পারভেজ, সিপিবির জেলা নেতা হাসান আলী শেখ প্রমুখ।

জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশে চতুর্থ সপ্তাহের লকডাউন চলছে। এই লকডাউনে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে চরম দুর্দাশা নেমে এসেছে। গত বছর সাধারণ ছুটিতে প্রান্তিক জনগোষ্টির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ খাদ্য বাবদ খরচ কমাতে বাধ্য হয়েছে এবং ৬৯ শতাংশ পরিবার ঋণ নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। দেশের সাড়ে পাঁচ কোটি শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়েছিলেন। এবারও অপরিকল্পিত লকডাউনের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বহু অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক। শ্রমজীবী মানুষের এক মাসের খাবার ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা অর্থসহায়তা এবং মধ্যবিত্তদের স্বল্প মূল্যে রেশনিং নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের মতোই এবারও এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল ঘুরে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ মিলছে না। অনেকেই পথেই মারা যাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা করাতেই দেড়-দুই লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। করোনার চিকিৎসা এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং টিকার ব্যবস্থা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। ভারতের একটি রাজ্যেই দিনে দুই লাখ করোনা টেস্ট হয়। অথচ আমাদের দেশে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টেস্ট হয়। এটা বাড়িয়ে কমপক্ষে দিনে এক লাখ টেস্ট করতে হবে।’

বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ১৮ এপ্রিল এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র এস এস পাওয়ার প্ল্যান্টের শ্রমিকদের ওপর বিনা উসকানিতে পুলিশ গুলি করে সাতজনকে হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন