default-image

গাজীপুরের টঙ্গীতে কারখানার এক শ্রমিককে মারধর ও হুমকির অভিযোগে টানা দুদিন বিক্ষোভ করেছেন তাঁর সহকর্মীরা। গতকাল রবি ও আজ সোমবার সকাল থেকে টঙ্গীর বিসিক এলাকার রেডিসন গার্মেন্টেসের সামনে এ বিক্ষোভ করেন তাঁরা। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তাঁরা।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা রেডিসন গার্মেন্টেসের। তাঁরা জানান, কারখানাটিতে কাজ করেন প্রায় ১ হাজার ৭০০ শ্রমিক। এর মধ্যে গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে রনি নামের এক অপারেটরকে মারধর করে কয়েকজন বহিরাগত। এ নিয়ে রনিসহ তাঁর সহকর্মীরা কারখানা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার রাতে কারখানার মূল ফটকে আবার কয়েকজন শ্রমিককে মারধরের হুমকি দেয় বহিরাগতরা। পরবর্তী সময়ে বাধ্য হয়ে রোববার সকাল ও সোমবার সকাল থেকে পুনরায় বিক্ষোভে নামেন তাঁরা।

শ্রমিকদের দাবি, মারধর বা হুমকি দেওয়ার সঙ্গে সোলায়মান নামের এক কর্মকর্তা জড়িত। তাঁর ইশারায় বহিরাগতরা রনিকে মারধর করে। বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার পুনরায় হুমকির ঘটনা ঘটলে তাঁরা আন্দোলনে নামেন।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক প্রথম আলোকে বলেন, রনি সুয়িং অপারেটর। তাঁর ইনর্চাজ (লাইন চিপ) সোলায়মান। সোলায়মান বিভিন্ন সময় কাজ নিয়ে রনিকে চাপ দিতেন। এ নিয়ে সোলায়মান ও রনির মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। পরে গত ৭–৮ ডিসেম্বর কারখানা ছুটির পর হঠাৎ করেই হামলার শিকার হন রনি। তাঁকে বেদম মারধর করা হয়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সোলায়মানের অপসারণ চান তাঁরা। কিন্তু তাতেও সোলায়মানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে পুনরায় কয়েকজন শ্রমিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। এরপর রোববার থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন তাঁরা।

তবে শ্রমিক মারধরের বিষয়টি গুজব হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট থানা–পুলিশ। তারা বলছে, কেউ মারধরের শিকার হলে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু তাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। এ ছাড়া যে বা যিনি মারধরের শিকার হয়েছেন, তাঁকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, শ্রমিকেরাও সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত মারধরের শিকার শ্রমিককে খোঁজে পাইনি। অনেকটা রিউমার ছড়িয়ে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন।’

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানার মূল ফটকে ঝোলানো একটি নোটিশের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে কারখানাটিতে যোগাযোগ করা হলেও দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি।

সকাল ১১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, শ্রমিকেরা কারখানার সামনে ও বিসিক এলাকার বিভিন্ন সড়কে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে অবস্থান করছেন। তাঁরা একসঙ্গে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করছেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে। পরে আবার জড়ো হয়ে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। বিকেল ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রমিকদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকার খবর জানা যায়।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন