default-image

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারায় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভে গুলি ও শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আজ শনিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। একই সঙ্গে ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে।

আজ সকালে বাঁশখালীর গণ্ডামারায় সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩ পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন। আহত শ্রমিকেরা পুলিশকে দায়ী করেছেন। পুলিশের অভিযোগ, বিনা উসকানিতে ইট–পাটকেল ছোড়ায় ঘটনার সূত্রপাত হয়।

শিল্প গ্রুপ এস আলমের মালিকানায় এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট নামে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। চীনা প্রতিষ্ঠান সেফকো থ্রি পাওয়ার কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড এখানে অর্থায়ন করেছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে শ্রমিকদের দাবিগুলো যৌক্তিক উল্লেখ করে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার, বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আজীবন আয়ের সমান আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায়সংগত দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জোট নেতারা।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা ও অসংখ্য শ্রমিক আহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম এক বিবৃতিতে বলেছেন, কাজ করিয়ে মজুরি না দেওয়া এবং বকেয়া মজুরি দাবি করলে গুলি করে হত্যা জঘন্য অপরাধ। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত ও আহত শ্রমিকদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

হতাহতের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমএসএফ মনে করে পুলিশের গুলিবর্ষণের বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়েছে জীবন রক্ষার জন্য, কথায় কথায় জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার দেওয়ার জন্য নয়। শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে মালিক বেতন-ভাতা প্রদান না করে কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে চরম দায়িত্বহীনতার কাজ করেছেন। পুলিশ কর্তৃক এভাবে গুলি করে হত্যাও চরম নিন্দনীয়। অনতিবিলম্বে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবির পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অবিলম্বে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবে। এই সরকারের হাতে দেশের মানুষের জীবন নিরাপদ নয়, দেশ নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নিরীহ শ্রমিকেরা তাঁদের ন্যায্য দাবি পেশ করতে গিয়ে গুলি খেয়ে মরবে, স্বাধীন দেশে, স্বাধীনতার এই সুবর্ণজয়ন্তীতে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ওই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আজীবন আয়ের সমান অর্থ ক্ষতিপূরণ এবং আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজামান।

একই দাবি জানিয়ে পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, খেলাফত মজলিস ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। এ ছাড়া একই দাবি জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলন এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, রাষ্ট্রীয় মদদে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর জবাব চট্টগ্রাম পুলিশ এবং এস আলম গ্রুপকে দিতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন