সংঘর্ষে ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটার আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন শ্রমিক সাইফুল ইসলাম, আনিছুর রহমান মণ্ডল, মোশারফ হোসেন, শামীম মিয়া, হারুন অর রশিদ, হায়দর আলী, জাহাঙ্গীর, রনি, রফিকুল ইসলাম ও খোকন মিয়া। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন শ্রমিক বাবু মিয়া। তাঁদের সবাইকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে গুলিবিদ্ধ বাবু মিয়ার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিতে বলেন।

কারখানার ভেতরে শ্রমিক সরদার ও তাঁর লোকজন আমাকে অন্যায়ভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। আমি এর বিচার চাই।
শামীম মিয়া, কারখানার আহত শ্রমিক

সংঘর্ষের খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী থানা-পুলিশ ও তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। জামালপুর জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের তারাকান্দি নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সামনে তাঁরা লাঠিপেটা করলে পুলিশ ও ট্রাকের চালক-শ্রমিকদের মধ্যে আবার পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাকচালক নাইম পুলিশের মারধরে গুরুতর আহত হন। সেই সঙ্গে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল লতিফ ও উপপরিদর্শক বশিরুল আলম আহত হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে মুঠোফোনে ছবি তোলার সময় স্থানীয় দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি রাইসুল ইসলামকে এবং দৈনিক পল্লীকণ্ঠ প্রতিদিন পত্রিকার সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি সোহেল রানাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের দুটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন দুপুরে যমুনা সার কারখানা এলাকা পরিদর্শন করেন। কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

কারখানার আহত লোডিং শ্রমিক শামীম মিয়া বলেন, ‘কারখানার ভেতরে শ্রমিক সরদার ও তাঁর লোকজন আমাকে অন্যায়ভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। আমি এর বিচার চাই।’ শ্রমিক সরদার ইউপি সদস্য মোফাজ্জাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কল না ধরায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রকিবুল হক বলেন, আট শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন