বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সভায় বক্তারা বলেন, গত বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরার পরিবারের ওপর প্রতিবেশী কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হন বিজয় হাজরার স্ত্রী রূপবতী হাজরা, ছেলে সাধন হাজরা (৩০) ও ছেলের বউ সাথি হাজরা (২৫)। পরে রাত সাড়ে ১০টার সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

আহত সাধন হাজরা বলেন, কিছুদিন আগে রাস্তার ওপর থেকে গোবর সরানো নিয়ে তাঁদের প্রতিবেশী লাল বাহাদুর, ধন বাহাদুর ও আশু বাহাদুরদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়৷ ঘটনার দিন বিকেলে তাঁরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করেন এবং তাঁর মাথায় দা দিয়ে কোপ দেন। এ ঘটনা দেখতে পেয়ে তাঁর মা ও স্ত্রী ছুটে আসেন। হামলাকারীরা তাঁর মা ও স্ত্রীর মাথায় ও শরীরে আঘাত করেন। পরে তাঁর মা হাসপাতালে মারা যান।

ভাড়াউড়া চা–বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নুর মিয়া এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা পরাগ বাড়ই, সহসভাপতি পংকজ কন্দ, ভাড়াউড়া চা–বাগান পঞ্চায়েত সাধারণ সম্পাদক সজল হাজরা, সাবেক সভাপতি উজ্জ্বল হাজরা। এ সময় ফিনলে টি ভাড়াউড়া ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার (উপব্যবস্থাপক) গোলাম মোহাম্মদ শিবলী উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, একজন নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা মানুষের কর্ম নয়। পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করেছে। তাঁরা হামলাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। তাঁদের চা–বাগান থেকে উচ্ছেদ করার জন্য বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান বক্তারা।

ফিনলে টির কর্মকর্তা গোলাম মোহাম্মাদ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। ন্যায়বিচারের জন্য আমাদের যতটুকু করার আছে, সব সহযোগিতা আমরা করব, যেন নিহতের পরিবার সঠিক বিচার পায়।’

শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কারকুন বলেন, এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে আহত সাধন হাজরা শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন