বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩৬ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। ১১ মে পর্যন্ত ৩১ হাজার ৫৬৯ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। ৫ হাজার ১৪০ হেক্টর জমির ধান কাটার অপেক্ষায় আছে।

দুই বিঘা জমিতে এ বছর বোরো আবাদ করেছেন ঘোলদাড়ি গ্রামের কৃষক আনারুল ইসলাম। মাঝারি ও ভারী বৃষ্টির কারণে তাঁর পুরো জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। হতাশার সুরে আনারুল বলেন, ‘খেতের ধান ঘরে তুলতি য্যাত ট্যাকা লাগবে, জমির সব ধান বেইচেও খরজ ওটপেনানে। তাই ভাবচি, ধান ঘরে তুলা দরকার নেই। পানি শুকালি ট্যাক্টার দিয়ে চষে দেব।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের উপপরিচালক বিভাস কুমার সাহা বলেন, অশনির আগে ৭০ শতাংশের বেশি জমির ধান কৃষকেরা ঘরে তুলেছেন। বৃষ্টির কারণে বাকিরা সমস্যায় পড়েছেন। অশনির প্রভাবে বৃষ্টিপাতের কারণে অন্তত ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ভোলারদাইড় গ্রামের কৃষক রমজান আলী চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে খাটোবাবু জাতের ধান এবং দুই কাঠা জমিতে বাংলামতি (ব্রি-৫০) জাতের ধান আবাদ করেছেন। রমজান জানালেন, এক বিঘা জমি এক ফসলি বন্দোবস্ত নিতে লাগে ছয় হাজার টাকা। জমি চাষ, ধানের চারা, সার, সেচ ও নিড়ানির জন্য শ্রমিক খরচ বাবদ আরও পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গ্যালো বচরে ধান কাইটে ঘরে তুলতি চার হাজার ট্যাকা খরজ হয়েল। এবেড্ডা ১৫–১৬ হাজার ট্যাকা লাগজে। সব মিলে এক বিগে জমিতি ধান চাষ করতি লাগজে ২৬ থেকে ২৭ হাজার ট্যাকা। এক মণ ধানের দাম ১ হাজার ৫০০ ট্যাকার নিচি হলি চাষি মাটে মারা যাবি।’

জাহাপুর গ্রামে কৃষক হাসান আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে যমুনা খাতুনকে নিয়ে মেশিনে ধান মাড়াই করছেন তার বাবা। একমাত্র ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো. হামজা ধানগাছের আঁটি নিয়ে এগিয়ে দিচ্ছে। স্ত্রী মালা বেগম ঝাড়া ধান গুছিয়ে বস্তাভর্তি করছেন। হাসান আলী বলেন, ‘ভিলেজ ইলাকায় গ্যালো বচর এই সুমায় ধানকাটা লিবারদের হাইজরে ছিল ২৫০ থেইকে ৩০০ ট্যাকা। এবেড্ডা এক লাপে ৭০০ থেইকে ৮০০ টাকা দাবি করচে। তাই বউ-বাচ্চা নিয়েই কাজ শুরু কইরে দিইচি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন