default-image

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর প্রকাশ্যে দুই হাত কেটে খুন করা হয় পৌর শ্রমিক লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুককে। এ ঘটনার দুই বছরেও প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হননি।
এদিকে এত দিনেও প্রধান আসামি ধরা না পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ওমর ফারুকের বাবা হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘বিচার এহন আল্লাহর কাছে দিয়া রাখছি।’
শনিবার দুপুরে নিহত শ্রমিক লীগের নেতা ওমর ফারুকের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, দুই বছরেও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার দেখতে না পেয়ে তিনি হতাশ। আতঙ্কিতও তিনি। নানা ভয়ভীতি ও হুমকি নিয়েই তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে এখন তিনি বেঁচে আছেন। বুড়ো বয়সে পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে তাঁর সন্তানের হত্যার বিচার দেখে যেতে চান তিনি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আক্তার হোসেন শনিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা সবাই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্ত শেষ পর্যায়ে আছে। এ ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত কয়েকজন আসামির নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের ঠিকানা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। শনাক্ত করা গেলেই দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। তিনি বলেন, দুই মাস ধরে তিনি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর সকালে পৌর এলাকার মসজিদ মোড়ে প্রকাশ্যে দুই হাত কেটে হত্যা করা হয় ওমর ফারুককে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছিলেন। ওমর ফারুকের সঙ্গে দলটির আরেক নেতা মো. সুমনের বিরোধ ছিল। হত্যাকাণ্ডের বছরখানেক আগে সুমনকে পিটিয়েছিলেন ওমর ফারুক। এরপর থেকে ওমর ফারুককে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন সুমন। ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর বাড়ি অদূরে মসজিদ মোড় এলাকা থেকে দুটি পিকআপ ভ্যানে করে ১৫-২০ যুবক এসে ওমর ফারুককে তুলে নেন। একটু দূরে কড়ইতলা কেওয়া পশ্চিম খণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নামিয়ে ওমর ফারুকের দুই হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হয়। একটি হাত স্কুলের ফটকের ভেতর ও অন্য হাত ফটকের বাইরে ফেলে রাখা হয়। সশস্ত্র মহড়া দিতে দিতে দক্ষিণ দিকের সড়ক ধরে চলে যান হামলাকারীরা। এ সময় আশপাশে প্রচুর লোকজন থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে এ ঘটনায় সুমনকে প্রধান আসামি করে কয়েকজনের নামে মামলা করা হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0