স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মমিন আলী ও বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ এবং বর্তমান সভাপতি শহিদুল ইসলাম মৃধা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামের নেতৃত্বাধীন আরেকটি পক্ষ আলাদাভাবে শোভাযাত্রার আয়োজন করে। সকাল ৯টার দিকে মমিন আলী-তাজুল ইসলাম পক্ষের লোকজন উপজেলার বাইপাস সড়কের সামনে জড়ো হলে পুলিশ এসে ধাওয়া দেয়। পরে তাঁরা কোলাপাড়া এলাকায় মমিন আলীর বাড়ির সামনে শোভাযাত্রার চেষ্টা করলে পুলিশ সেখানে লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অন্যদিকে শহিদুল ইসলাম-আবুল কালাম পক্ষের লোকজন শোভাযাত্রা করার জন্য সকাল ১০টার দিকে শ্রীনগর প্রেসক্লাব-সংলগ্ন এলাকায় আবুল কালামের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে জড়ো হন। পুলিশ ওই কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় শোভাযাত্রায় যোগ দিতে উপজেলা বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি মিছিল ওই কার্যালয়ে আসছিল। চকবাজার সেতুর ওপর পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ছাড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন মৃধার নেতৃত্বে একটি মিছিল চকবাজার ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে এলে লাঠিপেটা করে পুলিশ সেটি পণ্ড করে দেয়।

default-image

উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপি বড় একটি দল। দলের মধ্যে রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকতেই পারে। তবে আমাদের মধ্যে দলীয় ও জাতীয় কোনো বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব নেই। আজ স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের জন্য দলের অনেক নেতা-কর্মী একত্র হয়েছিলেন। আমাদের কর্মসূচি বাতিল করার জন্য পুলিশ নেতা-কর্মীদের ওপর কয়েক দফা হামলা করেছে। তাঁদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এ ঘটনা ন্যক্কারজনক।’

একই কথা বলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মী দেখে ভয় পেয়েছে। করোনার সময় আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। আজ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা করল। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির বিবদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। ২৬ মার্চ কেন্দ্র করে পক্ষ দুটি পৃথকভাবে কর্মসূচির আয়োজন করে। এ ব্যাপারে আমরা তাদের নিষেধ করেছিলাম। এরপরও তারা ব্যাপক লোকসমাগম করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় তাদের তিন-চারবার চেষ্টা করে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন বাধ্য হয়ে কয়েকজনকে সামান্য লাঠিপেটা করতে হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন