default-image

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় একটি কারখানার প্ল্যান্টে আগুনে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শ্রীপুরের টেপিরবাড়ী গ্রামের এ এস এম কেমিক্যাল কারখানার হাইড্রোজেন পার অক্সাইড প্ল্যান্টে আগুন লাগে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট কাজ করে। রাত আটটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

রাত পৌনে ১১টার দিকে প্ল্যান্ট থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর জিহাদ মিয়া গত রাতে এই তথ্যের সত্যতা প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন।

মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মো. আলমগীর হোসেন (৩৫)।

ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর জিহাদ মিয়া বলেন, প্ল্যান্টের নিচতলা থেকে আলমগীরের পুড়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি কারখানাটিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি টেপিরবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

আগুনের এই ঘটনায় আর কেউ হতাহত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান জিহাদ মিয়া।

বিজ্ঞাপন

অবশ্য গতকাল রাত ১১টার দিকে কারখানার ব্যবস্থাপক (জিএম-অ্যাডমিন) মো. আছিফুর রহমান দাবি করেন, আগুনের এই ঘটনায় কেউ মারা যাননি। কিছু লোক আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

আছিফুর রহমান বলেন, তাঁদের হাইড্রোজেন পার অক্সাইড বাংলাদেশের বিভিন্ন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যবহার করা হয়। আগুনের এই ঘটনায় তাঁদের প্রায় ৮০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিত হতে পারেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগুনে আহত ১৬ ব্যক্তি কারখানাটির অদূরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকার আল হেরা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে সেখান থেকে ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। একজনকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপক নাজমুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত মোট ১৬ জন তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আগুনের এই ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করেছে গাজীপুরের জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক এ এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, এই কমিটির প্রধান হবেন একজন অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন