বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মানিক শেখ অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতর নয়ন শেখ অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। তাঁর মা ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে খাইরুল মীরের সঙ্গে চার মাস আগে নয়ন শেখের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। তুচ্ছ ঘটনার জোরে তাঁর ভাইকে প্রথমে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে দৌড়ে পালাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পাশে একটি পুকুরে পড়ে যান নয়ন। সেখানে ফেলে উপর্যুপরি পিটিয়ে হত্যা করা হয়ে তাঁকে।

শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া গ্রামের আবদুল শেখের ছেলে নয়ন শেখ (৩০) ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয় লোকজন জানান, স্থানীয় কে এন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেট খেলা নিয়ে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের দুই পক্ষের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য ছাত্রলীগ কর্মী নয়ন শেখের ওপর দায়িত্ব দেয় একটি পক্ষ। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার জেরে নয়ন শেখ যুবলীগ কর্মী খাইরুল মীরের ছেলে অনুভবকে (১৪) ডেকে মারধর করেন। ছেলেকে মারধর করার কারণ জানতে খাইরুল মীর নয়ন শেখের কাছে উপস্থিত হন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে খাইরুল মীরকেও মারধর করেন নয়ন শেখ।

পরে রাত আটটার দিকে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় লিপ্ত হন। একপর্যায়ে নয়ন শেখকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আটকে রাখেন খাইরুল মীরের লোকজন। সেখান থেকে পালানোর সময় খাইরুল মীরের লোকজন ধাওয়া দিলে নয়ন শেখ পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান। পরে সেখানে তাঁকে পেটানো হয়। রাত পৌনে দশটার দিকে পুলিশ পুকুর থেকে নয়ন শেখের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন শুক্রবার রাত আটটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় রাতে মামলা হয়েছে। তবে মামলার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন