বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ বলছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না, তারা তা নিশ্চিত নয়। তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের বরজাপুর গ্রামে। গতকাল রাত ১১টার দিকে ছেলে সজীব মারা যায় কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। আর দিবাগত রাত দুইটার দিকে মা রাজিয়া গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রাজিয়া বেগম ওই গ্রামের ফজলুল হকের স্ত্রী। ফজলুল হক অনেক আগেই মারা গেছেন। রাজিয়ার তিন সন্তান ছিলেন মো. মোবারক, মো. মোশারফ ও মো. সজীব। এর মধ্যে সজীব ছিল শারীরিক প্রতিবন্ধী। হাত–পা চলৎশক্তিহীন ছিল। অপরের সাহায্য ছাড়া চলতে পারত না। অপর দুই সন্তান মোবারক ও মোশারফ বিয়ে করে স্ত্রী–সন্তান নিয়ে আলাদা সংসারে থাকেন।

বরজাপুর গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান চান মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, রাজিয়ার পরিবার খুবই দরিদ্র। জায়গা–জমি নেই। তিনি নিজের জমিতে রাজিয়া ও তাঁর সন্তানদের থাকতে দিয়েছিলেন। সজীবের প্রতিবন্ধী ভাতাসহ অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলতেন রাজিয়া।

ফজলুর রহমান জানান, রাজিয়ার ভাইয়ের বাড়ি পার্শ্ববর্তী কীর্তনীয়া গ্রামে। গতকাল রাজিয়ার ভাবি কীর্তনীয়া গ্রাম থেকে এসে তাঁর কাছ থেকে তিনটি ছাগল নিয়ে চলে যান। এ ছাড়া গতকাল সন্তানদের সঙ্গেও রাজিয়ার কথা–কাটাকাটি হয়। দুটি ঘটনা নিয়ে তিনি প্রচণ্ড বিষণ্ন ছিলেন। ধারণা করা যাচ্ছে, রাত ১০টার সময় ছেলে সজীবকে বিষ পান করিয়ে তিনি নিজেও বিষ পান করেন। ঘটনাটি বুঝতে পেরে প্রতিবেশীরা প্রথমে দুজনকে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার সময় সজীব মারা যায়। রাজিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে সেখান থেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দুইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

কাপাসিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন খান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আর্থিক অনটনসহ নানা কারণে প্রচণ্ড মানসিক চাপ থেকে রাজিয়া ছেলেকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত করা হচ্ছে। মা–ছেলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন