default-image

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার, নয়নপুর ও এমসি এলাকায় ওই মহাসড়কের ওপর প্রায় প্রতিদিন বসছে বাজার। এতে ঝুঁকিতে রয়েছেন এই মহাসড়কের ওপর দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা।

২০ জানুয়ারি ও গত মঙ্গলবার ওই স্থানগুলোতে সরেজমিন দেখা যায়, মহাসড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুপুরের পর থেকেই জমতে থাকে বাজার। সেখানে মাছ, তরিতরকারি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিয়ে বসেন দোকানদারেরা। বাজার বসার পর সড়কে যান চলাচলের জন্য জায়গা থাকে খুবই কম। এসব স্থানে এসে যানবাহনগুলোকে চলতে হয় অতিরিক্ত সতর্কতা মেনে। এ ছাড়া কাঁচাবাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই পক্ষই থাকেন সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে। সম্প্রতি এসব স্থানে কয়েকটি দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

জৈনাবাজার এলাকার ইসমাইল হোসেন বলেন, জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে জৈনাবাজার কাঁচাবাজারে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি গাড়ির ধাক্কায় আহত হন। একই এলাকার আমজাদ হোসেন বলেন, গত তিন মাসে এসব বাজারের ক্রেতা ও পথচারীরা অন্তত ৭টি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এমসি বাজারের বাসিন্দা মুমিনুল ইসলাম বলেন, এসব বাজার রাস্তা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। এতে সড়ক সরু হয়ে যায়। ফলে পথচারীদের বিপদ মাথায় নিয়ে চলাচল করতে হয়।

বাজার–সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব বাজার উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বৈধভাবে ইজারা নিয়ে বসানো হয়। নিয়মিত সরকারি সব ফি পরিশোধ করা হয়। তবে এ–ও জানা গেছে, বাজার বসানোর স্থানটুকুর বেশির ভাগ সড়ক ও জনপথের (সওজ)। সেখানে সওজ বাজার বসানোর কোনো অনুমতি দেয়নি। এমনকি অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ারও সওজের নেই।

জৈনাবাজার ইজারাদার সাহাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তো রাস্তায় বাজার বসাই না। ফুটপাতে বসাই। অনেক কৃষক অনেক সময় রাস্তায় বাজার নিয়ে বসেন। সেটা খুব স্বল্প সময়ের জন্য। আমরা দেখতে পেলেই সেখান থেকে তাঁদের তুলে দিই। পয়লা বৈশাখ থেকে আমি ডাক (ইজারা) নিয়েছি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে। জৈনাবাজার, এমসি বাজার, নয়নপুর—এই তিন বাজারের কোনো জায়গা নেই। ইউএনও সাহেব নিজে এসে ফুটপাতে জায়গা বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন।’

রাস্তা ছাড়াও পাশের যে জায়গায় বাজার বসাচ্ছেন, সেটা কার জায়গা, এমন প্রশ্নে সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘এটা সওজের জায়গা। কিন্তু এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

গাজীপুর সওজ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব স্থানে বাজার বসানোর অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের হাতে নেই। শুনেছি উপজেলা প্রশাসন থেকে ইজারা নিয়ে বসানো হয়। এসব স্থানে জেলা প্রশাসনের কোনো জায়গা থাকলে থাকতেও পারে। কিন্তু বাজারটি অধিকাংশই সওজের জায়গায় চলে আসছে। এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়েও অনেকবার কথা বলেছি। এবার আমরা একটি তালিকা তৈরি করে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেছি।’

ইউএনও তাসলিমা মুসতারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই জায়গাগুলোতে আগে থেকেই বাজার বসছে। তবে সড়কে বাজার বসালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি মনিটরিং করব।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন