বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও মিজানুরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্নাতক পাস করার পর মিজানুর কয়েক বছর ধরে শিমুলচূড়া গ্রামের বাড়িসংলগ্ন স্থানে মুদিদোকানের ব্যবসা করতেন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। প্রায় তিন বছর ধরে তালাকপ্রাপ্ত এক নারীর (২৩) সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে মিজানুরকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি ওই নারীকে বিয়ে করেননি। এ নিয়ে নারীর পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ ছিলেন।

গতকাল রাত নয়টার দিকে মিজানুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাবুল মিয়া মিজানুরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে মিজানুর ওই নারীর বাড়িতে গেলে তাঁর স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিজানুরকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় মিজানুরের ডাক-চিৎকারে এগিয়ে এসে প্রতিবেশী ও স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মিজানুরকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীবরদী থানার পুলিশ হাসপাতাল থেকে মিজানুরের লাশ উদ্ধার করে।

মিজানুরের বাবা মোতালেব অভিযোগ করে বলেন, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে বাবুল নামের এক তরুণ মিজানুরকে ডেকে নিয়ে যান। পরে রাত ১১টার দিকে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি থানায় হত্যা মামলা করবেন।

শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস সোমবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, তালাকপ্রাপ্ত এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিজানুর রহমান খুন হয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহত ব্যক্তির লাশের মাথায় ও হাতে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাবুল মিয়া নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ছাড়া জড়িত অন্যদের শনাক্তপূর্বক আটকের চেষ্টা চলছে। সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আফরোজা নাজনীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন