বিজ্ঞাপন

খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের সমন্বয়ক ও খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী থাকায় একদিকে যেমন চিকিৎসক–নার্সদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে ঝামেলায় পড়ছেন রোগীরাও।

অনেক আগে থেকেই হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় তা হয়ে উঠছে না। আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে রোগীর চাপ সামলাতে সদর হাসপাতালকে পুরোপুরি কোভিড হাসপাতাল হিসেবে পরিণত করার। এ ক্ষেত্রে ওই প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

মেহেদী নেওয়াজ বলেন, বর্তমানে যে ১০০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল রয়েছে, সেটিও থাকবে। সদর হাসপাতালের সাধারণ রোগীদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

এদিকে খুলনার ১০০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৪৩ জন। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে শয্যা খালি থাকা সাপেক্ষে নতুন রোগী ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে হাসপাতালের যতটুকু খালি জায়গা আছে, সেখানেই রোগী রাখা হয়েছে। বারান্দা, মেঝে—সবই পরিপূর্ণ। এর আগে এত সংখ্যক রোগী এ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বর্তমানে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগী ভর্তি হলে তাঁকে রাখা হয় ইয়েলো জোনে। পরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়লে রাখা হয় রেড জোনে। আর নেগেটিভ হলে পাঠানো হয় হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ডে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পজিটিভ রোগীদের সরাসরি রেড জোনে ভর্তি করা হয়।

করোনা হাসপাতালের ফোকাল পারসন সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, বর্তমানে রেড জোনে ৬১, ইয়েলো জোনে ৩০, হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ৩২ ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ২০ জন চিকিৎসাধীন।

গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে খুলনা জেলা ও মহানগরে করোনা শনাক্তের হার ৩৫ শতাংশ।

মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজন করোনায় এবং দুজনের উপসর্গ ছিল। করোনায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজনের বাড়ি বাগেরহাট ও একজনের সাতক্ষীরায়।

খুলনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা (রোগনিয়ন্ত্রণ) শেখ সাদিয়া মনোয়ারা জানান, গতকাল খুলনা জেলা ও মহানগরে নতুন করে ১৫৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ সময় ৪৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। খুলনায় মোট নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৩৫ শতাংশ। এর আগে বুধবার রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৯ শতাংশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন