default-image

নড়াইলের লোহাগড়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। হামলাকারীরা তাঁকে কুপিয়ে সঙ্গে থাকা একটি পিস্তল ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ সময় মারধরের শিকার হয়েছেন আরও এক এএসআই।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কুমড়ি গ্রামে ওই হামলা হয়। গুরুতর আহত লোহাগড়া থানার এএসআই মীর আলমগীরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর মাথায়, বাঁ হাতের কনুইয়ে কোপানো হয়েছে ও শরীরে মারধরের আঘাত রয়েছে। আহত এএসআই মিকাইল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানজিলা সিদ্দিকাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে যান। ছিনতাই হওয়া পিস্তল পরে উদ্ধার করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এএসআই মীর আলমগীর বলেন, ‘কুমড়ি গ্রাম এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। তাদের ঠেকাতে গেলে তারা হামলা চালায়। আমাকে রামদা দিয়ে কোপায় এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। আমার কাছে থাকা পিস্তল আটটি গুলিসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মিকাইলকেও মারধর করে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হই।’

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে আছে। এর এক পক্ষে নেতৃত্ব দেন কুমড়ি গ্রামের ওহিদুর সরদার। আরেক পক্ষে নেতৃত্বে আছেন লুটিয়া গ্রামের ফিরোজ শেখ। ওই দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার সময়ে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রথমে ফিরোজ শেখ পক্ষকে শান্ত করেন। এরপর ওহিদুর সরদার পক্ষের লোকজনকে নিবৃত্ত করতে তাদের কাছে গেলে তাদের ২০-২৫ জন ওই হামলা চালায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনা খানম বলেন, এএসআই আলমগীরের মাথায় কোপ কিছুটা গভীর হয়েছে। অবস্থা স্থিতিশীল আছে। চিকিৎসা চলছে।

নড়াইল পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় ৮০ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। বেলা আড়াইটার দিকে ওই এলাকায় একটি মসজিদের পাশে অস্ত্রটি পাওয়া গেছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন