default-image

হেফাজতে ইসলামের হরতাল ঘিরে সংঘাত-সহিংসতার পর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। কখন এই দুর্ভোগের অবসান ঘটবে, তার কোনো খবরও মিলছে না কর্তৃপক্ষের কাছে।

গতকাল রোববার হরতালের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ হয়। তারপর রাত ১১টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে শহরবাসীর রান্নার কষ্ট শুরু হয়। নাশকতার শঙ্কায় পুরো শহরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস সরবরাহ হয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে। তবে কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক আবুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, কারিগরি ত্রুটি সারানোর জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কখন অচলাবস্থা দূর হবে—এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি তাঁর কাছ থেকে।

হরতালের দিন সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ ভাষা চত্বর, শিল্পকলা একাডেমি, ওস্তাদ আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন, সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন পৌর মিলনায়তন, পৌরসভা কার্যালয়, থানা ভবন, পুলিশ লাইনস, প্রেসক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, ব্যাংক এশিয়া, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণগ্রন্থাগার, হালদারপাড়া কালিবাড়ি মন্দির, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় হামলার শিকার হয়।

বিজ্ঞাপন

আজ শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কের চিত্র প্রায় স্বাভাবিক থাকলেও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ঘাটুরা থেকে পুলিশ লাইনসসংলগ্ন এলাকায় এখনো নাকে লাগছে পোড়া গন্ধ।

পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে আজ সকালে দাঁড়িয়ে পৌর সচিব মো. সামছুউদ্দিন বলেন, আগুন জ্বলে দুই ঘণ্টা। চারটি দামি গাড়ি পুড়ে শেষ। আসবাবপত্র-নথি কিছুই রইল না। হাতের কাছে ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু এল না। উত্তর পাশের ভবনটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শামছুদ্দিনের ধারণা, আগুনে শুধু পৌরসভা কার্যালয়ের ক্ষতি হয়েছে শত কোটি টাকার।

পৌরসভায় নাগরিক সেবা স্বাভাবিক হতে কত দিন লাগবে, সেই প্রশ্নই ঘুরছে মানুষের মনে।

জড়িতদের শাস্তি হবে: ডিআইজি

আজ সকালে ঘটনাস্থল দেখতে আসেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। হরতালের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাহীনতার অভিযোগটি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁকে প্রশ্ন করেন।

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেনের যুক্তি, হরতালে চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ভালো ছিল না। কাছাকাছি সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২০টি স্থানে হামলা হয়েছে। ফলে সময় মতো ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি পুলিশ।

ডিআইজি বলেন, প্রতিটি হামলার ঘটনার মামলা হবে। জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে পিবিআইকে ধ্বংসস্তূপের আলামত সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, হরতালের দিন সকাল নয়টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহর এবং আশপাশ হরতাল সমর্থকদের ‘নিয়ন্ত্রণে’ চলে যায়। ফলে ইচ্ছেমতো হামলা হয়। কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি হামলাকারীদের। এমনকি আগুন নেভাতে সময়মতো স্টেশন ছাড়তে পারেননি ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও।

এদিকে হামলাকারীদের পরিচয় নিয়েও স্থানীয় লোকজনের মনে নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। অনেকের মতে, সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলা হামলায় হেফাজতের কর্মীরা নেতৃত্ব দিলেও পরের দৃশ্য ছিল অন্য রকম। তখন হামলাকারীদের বেশির ভাগের মাথায় ছিল না টুপি কিংবা পাঞ্জাবি। আগুন ধরিয়ে দিয়ে লুটপাটে মনোযোগী হয়ে পড়ে একটি অংশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন