default-image

লালমনিরহাটের বুড়িমারী এলাকায় আবু ইউনুছ মো. শহীদুন্নবী ওরফে জুয়েলকে (৫০) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় চার দফা দাবি জানিয়েছে পরিবার ও এলাকাবাসী। শনিবার দুপুরে নিহত শহীদুন্নবীর বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তরসহ চার দফা দাবি জানানো হয়।

নিহত শহীদুন্নবী রংপুর শহরের শালবন রোকেয়া সরণি এলাকার আবদুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তিনি রংপুর জিলা স্কুল থেকে ১৯৮৬ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর দুই ছেলেমেয়ে। বড় মেয়ে এবার এইসএসসি পাস করেছে ও ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জানানো চার দফা দাবিগুলো হলো—   নিহত ব্যক্তির স্ত্রী জেসমিন আক্তারের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা; হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এখনো যারা গ্রেপ্তার হয়নি অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করা; এ হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে এ হত্যার মামলাটি রংপুরে স্থানান্তর করা।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন লিখিত বক্তব্য পড়েন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জোবায়দুল ইসলাম। এ সময় জেসমিন আক্তার, তাঁর মা ও সন্তানেরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গত ৫ নভেম্বর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই ঘণ্টা স্থানীয় শালবন এলাকার সব দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এ সময় এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন রংপুর পুলিশ রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে আবু ইউনুছ মো. শহীদুন্নবীকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0