বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খুলনা নগরের সঙ্গে দিঘলিয়া উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে দৌলতপুরের রেলগেট এলাকায় সেতুটির নির্মাণকাজ চলছে। প্রায় ১ দশমিক ৩১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ওই সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০২ কোটি টাকা। এ ছাড়া জমি অধিগ্রহণ বাবদ খরচ ধরা হয়েছে আরও ২৮১ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে ৩০টির মতো পাইল বসানো হয়েছে। সেতুর জন্য ৩০০টির বেশি পাইল বসানো হবে।

সওজের প্রকৌশলীরা জানান, ভৈরব সেতু হবে এই অঞ্চলের অন্যতম ব্যতিক্রমী সেতু। নদের পানিপ্রবাহ ও নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নদ থেকে প্রায় ৬০ ফুট উঁচুতে পিসি গার্ডার নকশায় সেতুটি নির্মাণ করতে হবে। সেতুর সঙ্গে সড়কের সংযোগ স্থাপন করতে দৌলতপুর অংশে উড়ালসেতু হবে। দৌলতপুরের মুহসীন মোড় থেকে রেলক্রসিং পার হয়ে ভৈরব নদ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় এই উড়ালসড়কের জন্যই দৌলতপুর রেললাইনের পাশে লম্বা করে ২ একর ৮০ শতক জমি প্রয়োজন।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, মূল সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর রেলওয়ের জমি চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেয় সওজ। কিন্তু নকশা প্রণয়ন বা দরপত্রসহ অন্যান্য কাজ শুরুর সময় কিছুই জানানো হয়নি।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রধান সড়কের পাশের ওই জমিতে দুই শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিবছর সেখান থেকে ৬০ লাখ টাকার মতো ইজারা পায় রেলওয়ে। ওই জমির দাম প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

জমি নিয়ে গত দুই সপ্তাহে পাকশী সদর দপ্তরে দুই দফায় বৈঠক করেছে সওজ ও রেলওয়ে। রেলওয়ের কর্মকর্তারাও নিজেদের মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা ওই স্থান পর্যবেক্ষণ করতে আসবেন।

খুলনা জেলাটি পড়েছে রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলের পাকশী বিভাগের মধ্যে। বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান বলেন, ২০২০ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী কোনো সরকারি দপ্তরের জমি অন্য দপ্তর নিতে গেলে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিয়ে নিতে হবে, যদি তাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো আপত্তি না থাকে। আর সেটি করতে হয় ওই প্রকল্প শুরু করার আগে। কিন্তু এখানে তার কিছুই করা হয়নি।

মো. নুরুজ্জামান বলেন, ওই জমি নিতে গেলে রেলওয়ের দুটি প্রকৌশল কমিটির সুপারিশ লাগবে। কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে সুপারিশ পাঠাবেন রেলওয়ে সদর দপ্তরে। অনুমোদনের পর তা পাঠানো হবে মন্ত্রণালয়ে। পরে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক করে ওই সমস্যার সমাধান করবে।

খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, রেলওয়ের জমি হলো সরকারি জমি। তাই সরকারি দুই মন্ত্রণালয় বৈঠক করে জমি হস্তান্তর করবে। রেলওয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জমি রেখে বাকি জমি ছেড়ে দেবে, এটা নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। রেলের ডাবল লাইন করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রেখেই সড়কের নকশা করা হয়েছে।

এদিকে রেলের ওই জায়গা ইজারা নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ব্যবসায়ীরা সেতুটি অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আসছেন। ইতিমধ্যে তাঁরা ওই দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। উচ্চ আদালতে রিটও হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সড়ক করা হলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। এতে ক্ষতির মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। শিরোমনি বাদামতলা ঘাট হতে যশোর রোড পর্যন্ত চার লেনের সড়ক রয়েছে। যেখানে সেতুর সংযোগ সড়ক করলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এ ছাড়া ফুলবাড়ী গেট থেকে মীরেরডাঙ্গা পর্যন্ত এবং খালিশপুর ক্রিসেন্ট মিলের ভেতরেও অঢেল ফাঁকা জমি রয়েছে। সেখানে সেতু করলে ব্যাপক ক্ষতি এড়ানো যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন