বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বহেড়াতৈল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সীমানাপ্রাচীরের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশ ঘেঁষেই ভাটাটির অবস্থান। সখীপুর-রতনগঞ্জ পাকা সড়কের বহেড়াতৈল বাজার থেকে ২০০ গজ কাঁচা সড়ক বেয়ে রোগীরা ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। সড়কটি হাসপাতালের নিজস্ব হলেও ইটভাটার মাটি, প্রস্তুতকৃত ইট, কাঠ ও ভাটার মালামাল নিয়ে সার্বক্ষণিক ট্রাক চলাচল করে। ইটভাটা ঘেঁষেই উত্তর পাশে উপজেলার একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধার আবাসিক ভবন বীরনিবাস স্থাপন করা হয়েছে। বীরনিবাসের সামনেই ইটভাটার মাটি স্তূপাকারে রাখা হয়েছে। ইটভাটার ২০০ গজ দূরেই একটি উচ্চবিদ্যালয়, একটি বাজার, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বন বিভাগের কার্যালয় রয়েছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা রংলাল সরকার প্রথম আলোকে বলেন, এখানে আগে নারী ও শিশুরা চিকিৎসা নিতে আসত। কিন্তু কেন্দ্রের পাশের ইটভাটা থেকে ধুলাবালু উড়ে আসায় অনেকেই এখানে আর চিকিৎসা নিতে আসছে না। ভাটাটি উচ্ছেদে বারবার উপজেলা প্রশাসনকে জানালে তারা উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় না গেলেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কমপক্ষে ভাটার মালিককে ১০ বার জরিমানা করেছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাতেমা আকতার প্রথম আলোকে বলেন, ভবনের পাশ দিয়েই ইটভাটার মাটি রাখায় ওই বীরনিবাসে থাকার কোনো পরিবেশ নেই।

বহেড়াতৈল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ওয়াদুদ হোসেন বলেন, ওই ইটভাটার ইট নিয়ে ২০-২৫টি ট্রাক সব সময় রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রোগী ও বাজারের লোকজনকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

বহেড়াতৈল গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় কৃষকেরা সাময়িক লোভে পড়ে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি ওই ইটভাটায় বিক্রি করছেন। গ্রামবাসীর দাবি, ওই ইটভাটা উচ্ছেদ করা হোক।

বন বিভাগের বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ প্রথম আলোকে বলেন, সংরক্ষিত বনের পাশে ভাটা স্থাপনের নিয়ম না থাকলেও ওই ইটভাটা অবৈধভাবে স্থাপিত হয়েছে।

সব নিয়ম মেনেই ইটভাটাটি স্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি পূবালী ব্রিকসের মালিক আবদুর রহিম তালুকদারের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেওয়া হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ায় নবায়ন করার চেষ্টা চলছে। একটু-আধটু ত্রুটি তো থাকবেই। সবাইকে ম্যানেজ করেই চালাতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই উপজেলা প্রশাসন ভাটায় অভিযান চালিয়ে অহেতুক জরিমানা করছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন পাশেই ইটভাটার কারণে ওই স্বাস্থ্যকল্যাণ কেন্দ্রটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রশাসনকে ১০ বছর ধরে বারবার বলার পরও ওই ইটভাটা কেন উচ্ছেদ হচ্ছে না, তা বলতে পারছেন না।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমির উদ্দিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ওই ইটভাটার পরিবেশের ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। ছাড়পত্রের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। শিগগিরই অবৈধ ভাটাগুলোতে অভিযান চালানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন