মনিরামপুর এলজিইডি সূত্র জানায়, ২ কোটি ৫৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার মনিরামপুর-নওয়াপাড়া-সুন্দলী সড়কটির ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার সংস্কার করা হয়েছে। যশোরের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলআরআই-এমএমআই সড়কটির সংস্কারকাজ করেছে। সড়কটির কয়েকটি জায়গা নিচু ছিল। সড়কটি সমান করতে নিচু জায়গাগুলোতে দুই থেকে তিন ফুট উঁচু করে মাটি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১২ ফুট প্রস্থ সড়কটির দুই পাশে তিন ফুট করে মাটি দেওয়া দেওয়া হয়েছে। গত মার্চ মাসে সড়কটির সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। সড়কটি বুঝে নিয়ে ঠিকাদারের সব পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। সড়কের ওই জায়গাগুলো ঠিক করে দিতে গত ২১ জুন ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটির দুই পাশে অন্তত ১০ জায়গায় মাটি ধসে গেছে। দুই জায়গায় পাশের মাটি ধসে পড়ার পর সড়কটি ভেঙে পাকা অংশের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে এসেছে। অবশিষ্ট অংশে ফাটল ধরেছে। যানবাহন চালক এবং পথচারীদের সতর্ক করতে গ্রামবাসীদের কয়েকজন লাঠির মাথায় লাল কাপড় জড়িয়ে সেই লাঠি সড়কের ভেঙে যাওয়া অংশের দুই পাশে পুঁতে রেখেছেন।

ঠিকাদার রাতের বেলায় রাস্তার কাজ করেছেন। অত্যন্ত নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। রাস্তাটি বেহাল হয়ে পড়েছে।
বিপদ ভঞ্জন পাঁড়, চেয়ারম্যান, হরিদাসকাটি ইউপি

কুমারসীমা গ্রামের মলয় কুমার রায় বলেন, মেশিন (এক্সকাভেটর) দিয়ে রাস্তার জায়গার মাটি কেটে রাস্তায় ফেলা হয়েছে। কয়েক দিন মাত্র রাস্তাটি ভালো ছিল। বৃষ্টির পর থেকে রাস্তার দুই পাশ ধসে পড়ছে। নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার এবং ঠিকমতো বালু না দেওয়ায় রাস্তার কয়েক জায়গা দেবে গেছে।

পাঁচবাড়িয়া গ্রামের সুজন মল্লিক বলেন, রাস্তার ঢালের গোড়া থেকে মাটি কেটে রাস্তায় দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিন মাসের মধ্যে রাস্তার দুই পাশ ভেঙে পড়ছে। রাস্তায় কয়েক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এখন যা অবস্থা তাতে আর কিছুদিন পর এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাবে না।

একই গ্রামের বিপুল মল্লিক বলেন, ‘অত্যন্ত নিম্নমানের খোয়া দিয়ে রাস্তার কাজ করা হয়েছে। ঠিকমতো বালু দেওয়া হয়নি। রাস্তার পাশের অনেক তালগাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। আমরা বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। এখন রাস্তাটি ভেঙে পড়ছে।’

হরিদাসকাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিপদ ভঞ্জন পাঁড়ে বলেন, ঠিকাদার রাতের বেলায় রাস্তার কাজ করেছেন। রাস্তায় অত্যন্ত নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে মাত্র তিন মাসের মধ্যে রাস্তাটি বেহাল হয়ে পড়েছে।

তবে ঠিকাদার শাহারুল ইসলাম দাবি করেন, সড়কটির পাশের মাটি ভালো না। বর্ষায় মাটি গলে যায় এবং গরমে মাটি পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়। খুব ভালো করে সড়কের কাজটি করা হয়েছে। পুকুর পাড়গুলোতে কোনো গাইডওয়াল ধরা ছিল না। এ জন্য বৃষ্টিতে পুকুর পাড়ের জায়গাগুলো ভেঙে পড়ছে। ভাঙা জায়গায় কাজ শুরু করা হয়েছে। দ্রুত ভাঙা অংশ ঠিক করে দেওয়া হবে।

এলজিইডি যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম আনিসুজ্জামান বলেন, সড়কটি সরেজমিনে দেখার জন্য লোক পাঠানো হচ্ছে। সড়কটির ক্ষতি হয়ে থাকলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঠিকাদারকে সব পাওনা পরিশোধ করা হলেও তাঁর জামানত জমা রয়েছে। এক বছরের মধ্যে সড়কের কোনো সমস্যা হলে ঠিকাদার ঠিক করে দেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন