বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়া চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করার এই অভিযোগ উঠেছে। ওই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সদস্য ও ৩টি সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে পছন্দের লোকদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার জন্য তিনি এ কাজ করেছেন বলে অভিযোগ।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব (আইন) মো. মাহাবুবার রহমান সরকারকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, চিতলিয়া ইউপিতে ৪৮ জন প্রার্থী ইউপি সদস্যপদে এবং ১২ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন এবং তাঁদের মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৯ জন সাধারণ সদস্য ও ৯ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে তাঁদের মনোনয়নপত্র গত মঙ্গলবার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে বুধবার প্রতীক বরাদ্দের দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে প্রত্যাহারকারী কমপক্ষে ২০ জন প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেননি।

ওই প্রার্থীরা মঙ্গলবার ও বুধবার ছুটে যান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘এমপি স্যারের সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে চিতলিয়া ইউনিয়নে কোনো নির্বাচন হবে না, সবাই সিলেক্টেড হবে। এই কথা এমপি মহোদয় বলেছেন।’ এ নিয়ে ‘এমপি স্যার বলেছেন, চিতলিয়ায় কোনো নির্বাচন হবে না’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার প্রথম আলোতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন থেকে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে বলা হয়েছে, ২৮ অক্টোবর প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার–সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছিল কি না, ঘটে থাকলে তার বিস্তারিত বিবরণ এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক কমিশন কিংবা সচিবালয়কে যথাসময়ে অবহিত করা হয়েছিল কি না, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার–সংক্রান্ত বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তি চিহ্নিত করা। এ বিষয়গুলোর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক অন্য কোনো বিষয় থাকলে তা পর্যালোচনাপূর্বক সুপারিশ প্রদান করার জন্য তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এ বিষয় জানার জন্য জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান এবং চিতলিয়া ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিতলিয়ার ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার একটি অনুলিপি আমাকে দেওয়া হয়েছে।’ তবে এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন