বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ওই বিদ্যালয়সহ পাঁচটি বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকের কাজ পেয়েছে মীম কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির কাছে কাজগুলো বিক্রি করেছেন।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কার্যাদেশ মোতাবেক ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব শৌচাগারের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও একটি শৌচাগারের কাজও শতভাগ শেষ হয়নি। কোনোটি ৯০ ভাগ, কোনোটি ৫০ ভাগ, আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে এখনো কাজই শুরু হয়নি।

সম্প্রতি উপজেলার তৈলধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ের নির্মানাধীন ওয়াশ ব্লকের কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। ওয়ালে টাইলস লাগানো হলেও শৌচাগারে প্যান ও হাত ধোয়ার বেসিন এখনো বসানো হয়নি। এ বিদ্যালয়ে পানির পাম্প থাকলেও বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। সেখানকার একমাত্র নলকূপটিও বিকল হয়ে পড়ে আছে। বিদ্যালয়ে একটি টিনের পুরোনো শৌচাগার থাকলেও সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী মহল জানান, এখন নিরুপায় হয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা পাশের কাঁকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়িতে শৌচকর্ম সারছেন।

ফেরদৌসী মহল অভিযোগ করে বলেন, ‘করোনা শুরুর প্রায় ছয় মাস আগে থেকে ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। কিন্তু এ কাজের ঠিকাদারকে আমি চিনি না, এমনকি কোনোদিন তাঁকে দেখিওনি। শুধু শ্রমিকেরা কাজ করেছেন। শ্রমিকেরা তাঁদের ইচ্ছেমতো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন। এসব নিয়ে অভিযোগ করলে শ্রমিকেরা কাজ ফেলে চলে যান।’

default-image

মহানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও প্যান ও বেসিন বসানোর কাজ বাকি। এদিকে দোতলায় শৌচাগারের বাইরে রং করার কিছুদিন আগে কাজ শেষ হলেও ছাদের একটি অংশে ফাটল ধরেছে। এ ছাদ থেকে পানি চুয়ে পড়ে বলে জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

সহকারী শিক্ষক রিনা রানী বর্মণ বলেন, নির্মাণকাজ খুবই নিম্নমানের হয়েছে। এমনকি কাজ শেষ না হতেই ছাদে ফাটল ধরেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আমিনা জানান, যে ঠিকাদার এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তিনি আবার নায়েব আলী নামের আরেক ঠিকাদারের কাছে ‘কাজ বিক্রি’ করেছেন।

জানতে চাইলে নায়েব আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘এসএম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ বিদ্যালয়সহ ১২টি বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কাজ পেয়েছিল। সেখান থেকে আমি শুধু একটি বিদ্যালয়ের কাজ কিনে নিয়েছি। আগামী এক মাসের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করা হবে।’ কাজের মান নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নায়েব আলী কোনো কথা না বলে ফোন কেটে দেন।

উপজেলার চাম্বলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগারের অবস্থাও একই। ওই বিদ্যালয়সহ পাঁচটি বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকের কাজ পেয়েছে মীম কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির কাছে কাজগুলো বিক্রি করেছেন।

আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, আগামী চার মাসের মধ্যে ওই বিদ্যালয়ের শতভাগ কাজ শেষ করা হবে। করোনার কারণে শ্রমিক–সংকট থাকায় এ সমস্যা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাফিলতি ও তদারকির অভাবে ঠিকাদারেরা নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করেনি। আমি জনস্বাস্থ্যের ইঞ্জিনিয়ারকে বার বার তাগাদা দিয়েছি। তিনি আমার কথা কানে তোলেননি। এ ছাড়া যতটুকু কাজ হয়েছে, তা–ও নিম্নমানের।
মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা

এদিকে উপজেলা নব্য সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনোয়ার দুলাল অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ে মাত্র ১০ ভাগ কাজ করে ঠিকাদার চলে গেছে। এক বছর ধরে ঠিকাদারের আর কোনো খোঁজ নেই। ওই ঠিকাদারকে ফোন করলে নানা আশ্বাস দিয়ে ফোন কেটে দেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাফিলতি ও তদারকির অভাবে ঠিকাদারেরা নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করেনি। আমি জনস্বাস্থ্যের ইঞ্জিনিয়ারকে বার বার তাগাদা দিয়েছি। তিনি আমার কথা কানে তোলেননি। এ ছাড়া যতটুকু কাজ হয়েছে, তা–ও নিম্নমানের।’

জানতে চাইলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করতে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ১০টি বিদ্যালয়ের কাজ যেন শেষ হয়, সে জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।

জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মায়াজ ইবনে প্রামানিক মুঠোফোনে বলেন, করোনার কারণে কিছু ঠিকাদার কাজ করতে দেরি করছেন। কাজ শেষ করতে তাঁদের জোর তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই অসমাপ্ত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন