default-image

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) থেকে কম দামে জনগণের মধ্যে পণ্য বিক্রির জন্য ডিলারদের বরাদ্দ দেওয়া হলেও টাঙ্গাইলের সখীপুরে ‘প্যাকেজ’ ছাড়া পণ্য দিচ্ছেন না তাঁরা। এ ছাড়াও প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে খেজুর ও ২০ টাকা দরে পেঁয়াজ তালিকায় থাকলেও ফুরিয়ে গেছে বলে দাবি করেন ডিলার। এ কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন কম মূল্যের টিসিবির পণ্য থেকে।

উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও উপজেলা পরিষদ ফটকের সামনে ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে। বাজারমূল্যের চেয়ে কম দাম হওয়ায় ক্রেতাদের ভ্রাম্যমাণ এই বিক্রয়কেন্দ্রে ঝুঁকে পড়ার কথা থাকলেও প্যাকেজ করে বিক্রি করায় নিম্ন আয়ের ক্রেতারা তেমন সাড়া দিচ্ছেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় টিসিবির মাত্র একজন ডিলার। প্রতিটি ট্রাকে প্রতিদিন একজন ডিলারকে চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, খেজুর, ছোলাসহ ছয়টি পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়। কাকলি এন্টারপ্রাইজ নামের ওই ডিলারকে গত দুই সপ্তাহে সাড়ে তিন টন পণ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৫৫ টাকা, ছোলা ৫৫ টাকা, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, খেজুর ৮০ টাকা ও পেঁয়াজ ২০ টাকা দরে বিক্রির কথা। অথচ ওই ডিলার এক কেজি চিনি, এক কেজি মসুর ডাল, দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি ছোলা, সঙ্গে একটি বাজারের ব্যাগ ১০ টাকাসহ ৪৩০ টাকার প্যাকেজ বিক্রি করছেন। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ পণ্য কিনতে গিয়ে প্যাকেজে বিক্রির খবর শুনে ফিরে আসছেন। তবে মোটামুটি সচ্ছলদেরই পণ্য কিনতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আমিনুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘তেল, চিনি ও ডাল প্রয়োজন। কিন্তু এগুলোর সঙ্গে আমাকে ২ কেজি ছোলা নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া পেঁয়াজ ও খেজুর তালিকায় থাকলেও সেগুলো ফুরিয়ে গেছে বলে তাঁরা অজুহাত দেখাচ্ছেন।’

ময়মনসিংহ থেকে আমাদের প্যাকেজ করেই পণ্য দিচ্ছে। প্যাকেজে পণ্য বিক্রি করতে না পারলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে। প্যাকেজে বিক্রি করতে না দিলে আর পণ্যই আনা হবে না।
আতিকুর দুলাল, সখীপুরে টিসিবির একমাত্র ডিলার

সাহেরা খাতুন নামের একজন চা বিক্রেতা বলেন, ‘আমি চা বেচে দুই সন্তানকে লেখাপড়া করাচ্ছি। এখন লকডাউন ও রোজার কারণে চা বিক্রিও বন্ধ। আমার পক্ষে প্যাকেজে ৪৩০ টাকার পণ্য কেনা সম্ভব নয়। আমি তেল ও চিনি কিনতে চাই। কিন্তু তাঁরা আমাকে এভাবে পণ্য দিতে চাননি। তাই আমি খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি।’

সখীপুরের একমাত্র ডিলার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আতিকুর দুলাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে আমাদের প্যাকেজ করেই পণ্য দিচ্ছে। প্যাকেজে পণ্য বিক্রি করতে না পারলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে। প্যাকেজে বিক্রি করতে না দিলে আর পণ্যই আনা হবে না।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী প্রথম আলোকে বলেন, প্যাকেজ আকারে টিসিবির পণ্য বিক্রি করার নিয়ম নেই। এ বিষয়ে টিসিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন