default-image

লালমনিরহাটের স্কুলশিক্ষক লক্ষ্মীকান্ত রায়ের অকার্যকর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সচল হয়েছে। সম্প্রতি করোনার টিকা নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র ‘অকার্যকর’ দেখালে তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে ২০১৪ সালের ৩ জুন তিনি মারা গেছেন বলে জানানো হয়। এরপর এনআইডি তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।

এনআইডির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ায় ভোট দিতে না পারাসহ নানা ধরনের সমস্যায় পড়ছিলেন স্কুলশিক্ষক লক্ষ্মীকান্ত। এ নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ‘ভারতে যা সিনেমা, তা লালমনিরহাটে বাস্তব’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই দিনই এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজাদুল হেলাল স্কুলশিক্ষক লক্ষ্মীকান্তকে ফোন করে তাঁর এনআইডি সচল হয়েছে বলে জানান। এরপর তিনি বৃহস্পতিবার রাতে লালমনিরহাট শহরের থানা রোডের একটি কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে তাঁর এনআইডির নম্বর দিয়ে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধনের কাজ শেষ করেন।

স্কুলশিক্ষক লক্ষ্মীকান্ত রায়ের অকার্যকর এনআইডি বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি বিভাগ থেকে আবার সচল করা হয়েছে। এখন লক্ষ্মীকান্ত ওই এনআইডি ব্যবহার করে অনলাইনভিত্তিক প্রয়োজনীয় কাজ বা সেবা নিতে পারবেন।
মঞ্জুরুল হাসান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, লালমনিরহাট

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলশিক্ষক লক্ষ্মীকান্ত রায়ের অকার্যকর এনআইডি বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি বিভাগ থেকে আবার সচল করা হয়েছে। এখন লক্ষ্মীকান্ত ওই এনআইডি ব্যবহার করে অনলাইনভিত্তিক প্রয়োজনীয় কাজ বা সেবা নিতে পারবেন।

এ বিষয়ে স্কুলশিক্ষক লক্ষ্মীকান্ত প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম আলো প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় প্রকাশ করে তাঁর এনআইডি সচল করতে সহায়তা করেছে। এ জন্য প্রথম আলোকে তিনি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান।

জীবিত স্কুলশিক্ষক লক্ষ্মীকান্ত রায়কে নির্বাচন কমিশন ২০১৫ সালে মৃত দেখিয়ে তাঁর এনআইডি অকার্যকর করে দেয়। এ নিয়ে লক্ষ্মীকান্ত রায় বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হন। এনআইডির এ সমস্যা সমাধানের জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি আবেদন করেন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন