বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তৃতীয় ধাপে গত ২৮ নভেম্বর ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন উপজেলার ১৫টি ইউপির মধ্যে মাত্র ১টি ইউপিতে জয় পায় আওয়ামী লীগ। বাকিগুলোতে বিজয়ী হন সাংসদ নিক্সন মনোনীত প্রার্থীরা। সুশীলের আশঙ্কা অনেকটাই মিলে গেলেও সদরপুরে আওয়ামী লীগের ফলাফল ভাঙ্গা কিংবা চরভদ্রাসনের মতো অতটা বিপর্যয়কর হয়নি।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে বলাবলি হচ্ছে, পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে সদরপুরে আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থী বিজয়ী হলেও প্রকৃত ঘটনা হলো, সদরপুরে কাজী জাফরউল্যার দুজন প্রার্থী এবং নিক্সনের সাত সমর্থক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কৃষ্ণপুর ইউপিতে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকতারুজ্জামান আসলে স্বতন্ত্র দলীয় সাংসদ নিক্সনের অনুসারী।

চরমানাই ইউপির নয়টি কেন্দ্র মিলে নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ বজলু মাতুব্বর মাত্র ৫৬ ভোট পেয়েছেন। বিজয়ী প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম ৩ হাজার ৩০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

কৃষ্ণপুর সদরপুরের একটি ইউনিয়ন হলেও এটি ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) নির্বাচনী এলাকাভুক্ত। এ কারণে এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনে ভূমিকা পালন করেছেন জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহদাব আকবর। এ কারণে তিনি নিক্সনের প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী জাফরউল্যাহর অনুসারী না হয়েও নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন।

মাত্র ১০১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন উপজেলার চর নাসিরপুর ইউপির আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজ ব্যাপারী। তিনি শুধু জামানতই হারাননি, চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে তিনি হয়েছেন চতুর্থতম। এ ইউপির মোট ভোটার ৯ হাজার ৮৪২ জন, ভোট দিয়েছেন ৭ হাজার ৬৬৪ জন।

ভাসানচর ইউপির আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মইদুল বাশারও জামানত হারিয়েছেন। তিনি ৬৯৭ ভোট পেয়েছেন এবং ১২ প্রার্থীর মধ্যে ষষ্ঠ হয়েছেন। এ ইউপির মোট ভোটার ২০ হাজার ৬৩৮, ভোট দিয়েছেন ১৫ হাজার ১৩ জন।

ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনটি ফরিদপুরের ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনের স্বতন্ত্র দলীয় সাংসদ মুজিবর রহমান। এটি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক সাংসদ কাজী জাফরউল্যারও নির্বাচনী এলাকা। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে দুবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী হয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিক্সনের কাছে হেরে যান কাজী জাফরউল্যাহ। ফলে দিনে দিনে ওই তিনটি উপজেলায় জাফরউল্লার সমর্থক কমেছে এবং নিক্সনের সমর্থক বেড়েছে। রাজনীতির মাঠে ওই দুই নেতার কার কী অবস্থান, তা–ই যেন জানান দিয়ে গেল ওই তিনটি উপজেলায় ২৪টি ইউপি নির্বাচনের ফলাফল।

নিজের পরাজয়ের মূল্যায়ন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া চরমানাই ইউপির নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ বজলু মাতুব্বর বলেন, ‘নির্বাচনে ভোট কেনাবেচা হয়েছে। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি দলের কোনো সহযোগিতা পাইনি। এ এলাকার পাশেই মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা। ফরিদপুর-৪ আসনের সাংসদ ওই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর লোকদের তাণ্ডবের কারণে আমার সমর্থকেরাও মাঠে নামতে পারেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে আওয়ামী লীগ করে আমরা প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান বর্তমানে নিক্সনপন্থী হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে কাজী শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বাছাই সঠিক হয়নি। আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক অথচ আমি জানি না, কাকে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। অপর দিকে সাংসদ নিক্সন বিপদে-আপদে মানুষের পাশে থাকে একজন আপনজন হিসেবে। যাঁকে যে কথা দেন, তা রক্ষা করেন। এ কারণে তাঁর সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।’

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন