default-image

ফরিদপুরের সদরপুরে দলীয় কার্যালয়ে পাল্টাপাল্টি তালা দিয়েছে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুটি পক্ষ। আজ শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে সাবেক সাংসদ কাজী জাফর উল্যাহর সমর্থকেরা আগের তালা ভেঙে কার্যালয়ে নতুন তালা ঝুলিয়ে দিয়ে আসেন। এর পাঁচ ঘণ্টার মাথায় বিক্ষোভ মিছিল করে সেই তালা ভেঙে নতুন আরেকটি তালা ঝুলিয়ে দেন বর্তমান সাংসদ মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সনের সমর্থকেরা।

সদরপুর আওয়ামী লীগ দুটি ধারায় বিভক্ত। একপক্ষ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনের সাবেক সাংসদ কাজী জাফর উল্যাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিতি। আরেক পক্ষ যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ফরিদপুর-৪ আসনের বর্তমান সাংসদ মজিবুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চলে। সদরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়টি উপজেলা সদরে সদরপুর স্টেডিয়ামের পাশে অবস্থিত।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, দলীয় কার্যালয়টি এর আগে কাজী জাফর উল্যাহর অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে স্বতন্ত্র সাংসদ নিক্সন চৌধুরী যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১ জানুয়ারি তাঁর অনুসারীরা ওই কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাজী জাফর উল্যাহর ছবি ভাঙচুর করে ওই ভবনটি দখল করে নেন। এরপর সেখানে সাংসদ নিক্সন চৌধুরীর ছবি টানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে কাজী জাফর উল্যার অনুসারীরা দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সাংসদ নিক্সন চৌধুরীর ছবিটি অপসারণ করেন এবং নতুন একটি তালা কার্যালয়ের মূল ফটকে ঝুলিয়ে দেন। এ কাজে নেতৃত্ব দেন উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক মো. আশরাফুল।

এদিকে এ ঘটনার পর সকাল ১০টার দিকে নিক্সনের সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা সদরে প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। তাঁরা দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে জাফর উল্যাহপন্থীদের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন এবং পরে নতুন আরেকটি তালা মেরে চলে আসেন।

কাজী শফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কিছু ফালতু লোক ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার দিকে কার্যালয়ের তালা ভেঙে সাংসদ নিক্সনের ছবি নিয়ে যান এবং নতুন তালা মেরে দেন। এ ঘটনা জানার পর তাঁরা মিছিল করে প্রতিবাদ জানান এবং কার্যালয়ে নতুন তালা লাগিয়ে দেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সদরপুর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

কাজী জাফর উল্যাহপন্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আলম রেজা বলেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে কাজী শফিকুর রহমান ওই কার্যালয় দখল করেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম তুহীন আলী বলেন, সাংসদের বিরোধী অংশ ভোরে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে সাংসদের ছবি নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে সাংসদপন্থীরা একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন