বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই দম্পতির বাড়ি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজার এলাকার উত্তরপাড়ায়। ওই নারীর নাম জানা যায়নি। তবে তাঁর স্বামীর নাম ফারুক মিয়া (৪০)। ফারুক রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকার একটি এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক ব্যক্তি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি শীতলক্ষ্যা নদীর রেলসেতু পার হয়ে প্রচণ্ড গতিতে ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ স্টেশনে প্রবেশ করছিল। ঠিক তখনই ওই নারী কোলের শিশুসন্তানকে নিয়ে রেললাইনে গিয়ে দাঁড়ান। ট্রেন আসতে দেখে শিশুটি ভয়ে তাঁর মায়ের কোল থেকে নেমে আসতে চাইছিল। তবুও ওই নারী নেমে আসছিলেন না। এই দৃশ্য দেখে ঝুঁকি নিয়ে এক ব্যক্তি একপ্রকার জোর করে তাঁদের রেললাইন থেকে সরিয়ে আনেন। অল্পের জন্য তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেছেন।

ফারুক মিয়া বলেন, আজ কর্মস্থলে না যেতে পারলে তাঁর চাকরি যায় যায় অবস্থা। এ জন্য সকালে স্ত্রীকে সবকিছু বুঝিয়ে স্টেশনের উদ্দেশে রওনা হন। স্টেশনে আসার পর ঢাকাগামী ট্রেনের জন্য দীর্ঘক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিলেন। একসময় বিরক্ত হয়ে স্ত্রী আর ঢাকা যেতে চাইছিলেন না। বারবার বোঝানোর পরও যেতে না চাওয়ায় তিনি তাঁকে বাড়িতে চলে যেতে বলে স্টেশনের বাইরে চলে আসেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বাসে করে ঢাকায় যাওয়ার। এরই মধ্যে স্ত্রী এমন কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন। পরে উপস্থিত লোকজনের ফোন পেয়ে তিনি আবার স্টেশনে ফেরত আসেন। স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে এখন বাড়িতেই আছেন।

ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার গোলাম মোস্তফা জানান, স্বামীর প্রতি বিরক্ত হয়ে ওই নারী তাঁর সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করতে রেললাইনে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়া ওই নারী ও শিশুকে উদ্ধারের পর তাঁর স্বামীর মুঠোফোনে কল করে ডেকে আনা হয়। এ সময় জড়ো হয়ে যাওয়া শতাধিক লোক তাঁদের বুঝিয়ে একসঙ্গে বাড়িতে পাঠান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন