বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় ইমার প্রসববেদনা শুরু হলে তাকে দাউদকান্দির গ্রিনল্যাব হসপিটালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টায় স্বাভাবিকভাবে কন্যাসন্তানের মা হয় ইমা। হাসপাতাল থেকে আজ বেলা দেড়টায় ছুটি ছাড়াই ভর্তি অবস্থায় সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় করে ইমাকে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যান তার মা খোরশেদা বেগম। শিক্ষকেরা জানান, সে দেড় ঘণ্টার পরীক্ষা শেষ করেছে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে সে।

লালপুর নজরুল ইসলাম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বশির আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, মেয়েটি ভালো ছাত্রী। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বিয়ে হয়। তবে অন্য মেয়েদের মতোই সে নিয়মিত ক্লাস করেছে। বাল্যবিবাহ ও সন্তান প্রসব—এসব বাধা তাকে দমাতে পারেনি।

প্রধান শিক্ষক বশির আহমেদ আরও জানান, সদ্য সন্তান প্রসবের কারণে ইমার পরিবার থেকে তাকে পরীক্ষা না দেওয়ার জন্য বলা হলেও সে কারও কথা শোনেনি। বরং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সে উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে।
গৌরীপুর বিলকিস মোশাররফ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব মো. সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরীক্ষা চলার সময় আমি ছাত্রীটির সার্বক্ষণিক খোঁজ নিয়েছি। সে খুব সাহসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাল্যবিবাহের কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি কঠোরভাবে তা মোকাবিলা করি। বিদ্যালয়ে গিয়ে বাল্যবিবাহ না করার জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করি।

default-image

এদিকে আজ সকাল ১০টায় ভূগোল বিষয়ের পরীক্ষায় দাউদকান্দির বিলকিস মোশাররফ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তান হওয়ার পাঁচ দিন পর নিপা আক্তার নামের এক কিশোরী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে। ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর উপজেলার বাজারখোলা গ্রামের সৌদীপ্রবাসী মো. শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৬ নভেম্বর সকাল সাতটায় দাউদকান্দির সিটি হসপিটালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যেমে তার কন্যাসন্তান হয়।

নিপা গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী ও স্থানীয় হাটচান্দিনা গ্রামের বাসিন্দা। সে লেখাপড়া করে উচ্চ শিক্ষিত হয়ে শিক্ষক হতে চায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন