বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাগরে মাছ ধরার পেশায় বিপ্লবের হাতেখড়ি ২০ বছর আগে। এর মধ্যেই তিনি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু করোনাকালে সে চাকরিও চলে যায়। এ কারণে পুরোনো পেশায় ফিরে আসেন তিনি। তবে চলতি মৌসুমে সাগরে নেমে আশানুরূপ ইলিশ পাননি বিপ্লব।

বিপ্লবের নৌকায় কাজ করেন মোট ছয়জন। মাসে একজন কর্মীর বেতন ২৫ হাজার টাকা। কর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয় তাঁকেই। এ মৌসুমে দুই মাসে ছয় কর্মীর পেছনে বিপ্লবের ব্যয় হয় তিন লাখ টাকা। এর বাইরে জাল, নৌকা, জ্বালানিসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয় আরও তিন লাখ টাকা। সবকিছু বাদ দিয়ে হাতে তেমন কিছুই থাকেনি। একজন কর্মীকে বেতন হিসেবে যা দিয়েছেন, সেই পরিমাণ টাকাও নিজের ঘরে তুলতে পারেননি বিপ্লব। তার ওপর এবার ইলিশ শিকারে পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা ১০ দিন এগিয়ে এনেছে সরকার। সব মিলিয়ে চরম হতাশ বিপ্লব।

বিপ্লবের মতো হতাশ চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা প্রায় সবাই। সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত ছয়টি ইউনিয়নের জেলেদের জালে এবার তেমন ইলিশ ধরা পড়েনি। অবশ্য উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের তিনটি ঘাটে মৌসুমের শেষ ‘জো’তে বেশ ইলিশ পড়েছে। তবে সেটাও অন্যবারের তুলনায় অনেক কম।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের হিসাব বলছে, ২০২০ সালে মৌসুমের শুরু থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সীতাকুণ্ডের জেলেরা ইলিশ ধরেন ১ হাজার ১২৫ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন। এ বছর একই সময়ে ইলিশ ধরা পড়েছে মাত্র ৩৭৩ মেট্রিক টন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামীম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সন্দ্বীপ চ্যানেলে এবার ইলিশ কিছুটা কম ধরা পড়েছে। উজান থেকে মিঠাপানির সংকট ও শিল্পকারখানার বর্জ্যের কারণে এমনটা হয়েছে বলে তাঁর ধারণা।

উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশন বলছে, চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার ৫৩ হাজার পরিবার সাগরে মাছ ধরার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইলিশ কম ধরা পড়ায় বিপাকে পড়েছে এসব জেলে পরিবার। অনেকে দেনা পরিশোধ করতেও পারেননি।

default-image

এদিকে ইলিশ কম ধরা পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাও বিপাকে পড়েছেন। এবার ইলিশের দাম বেশ চড়া। সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ও বার আউলিয়া এলাকার ইলিশের বাজারে এখন ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রতি কেজি ২২০ টাকার বেশি। গত বছর এই আকারের ইলিশ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছিল ৮০-১০০ টাকায়। এ বছর বড় ইলিশ তেমন দেখা যাচ্ছে না। ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬০০-৮০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায়।

উপজেলার কলেজশিক্ষক দিদারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এমনিতেই এবার ইলিশের দাম চড়া। তার ওপর ভারতে ইলিশ রপ্তানি বাড়িয়েছে সরকার। এ কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম আরও বেড়ে গেছে। ইলিশ এবার তাই গরিবের নাগালের বাইরে।

স্মারকলিপি দেবেন জেলেরা

প্রতিবছর ১৪ অক্টোবর ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। এ বছর নিষেধাজ্ঞা ১০ দিন এগিয়ে করা হয়েছে ৪ অক্টোবর। এর ফলে চোখে অন্ধকার দেখছেন জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন। অন্যবারের মতো এবারও ১৪ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হোক, এটা চাইছেন জেলেরা। এ দাবিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেবে জেলেদের সংগঠনগুলো। কাল রোববার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করা হবে।

উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লিটন জলদাস জানান, আগের দফার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর গত দুই মাসে সাগরে তেমন মাছ পাননি জেলেরা। আগামী ‘জো’তে ইলিশ ধরতে পারলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারতেন তাঁরা। স্মারকলিপি দেওয়ার পর সরকার সিদ্ধান্ত বদল না করলে কঠোর কর্মসূচি দেবেন জেলেরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন