default-image

সড়কের দুই পাশে গাছের সারি। বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের আকতার আলী মুন হলের সামনের সড়কটি ক্যাম্পাস খোলা থাকলে শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর থাকে। ছুটির দিনেও ভিড় করেন অনেকে। তবে সন্ধ্যার পর সড়কটিতে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। নিয়মিত চলাচলকারীদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর সড়কটি হয়ে ওঠে ‘ভয়ংকর’।

গত তিন বছরে এই সড়কে ২৪টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। নিহত হয়েছেন দুজন। সবশেষ গত রোববার রাতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিশু মিয়া (৩২)। তিনি জামিলনগর এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থেকে চাকরি খুঁজছিলেন।

রোববারের ওই ঘটনার পর কলেজটির শিক্ষার্থী, কলেজ প্রশাসন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই কলেজ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এ পথ দিয়ে চলতে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকারও হয়েছেন অনেকে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাসের ভেতরে কামারগাড়ি থেকে আকতার আলী মুন আবাসিক হলের সামনের বগুড়া ও জহুরুলনগর সড়ক।

স্থানীয় কামারগাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন বলেন, গত তিন বছরে শুধু কামারগাড়ি-পুরান বগুড়া সড়কের মুন হলের সামনেই ২৫ থেকে ৩০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইকারীদের হাতে ছুরিকাহত হয়েছেন অনেকেই। মাদকসেবী ও পেশাদার ছিনতাইকারীরা সড়কটিতে ওত পেতে থাকে। নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি।

বিজ্ঞাপন

জহুরুলনগর এলাকার বাসিন্দা ও কলেজশিক্ষক জিয়াউল ইসলাম বলেন, জহুরুলনগর এবং পুরান বগুড়া এলাকার কয়েক শ ছাত্রাবাস ও বাসাবাড়িতে বসবাসকারীদের আকতার আলী মুন হলের সামনের সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সড়কটিতে রাতে আলোর ব্যবস্থা নেই। নেই নিরাপত্তা প্রহরী। এ কারণে সন্ধ্যার পর এই সড়ক ‘ভয়ংকর’ হয়ে ওঠে। ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা দরকার।

সম্প্রতি এই সড়কে হামলার শিকার হন পুলিশের এক এসআই। দুর্বৃত্তদের হাতে ছুরিকাঘাত হন তিনি। এর আগে এই সড়কে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে একজন নৈশপ্রহরী নিহত হন। নিরাপত্তার বিষয়ে বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় রাত্রিকালীন টহল জোরদার করা হবে।

আর সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বলেন, মাত্র আটজন নৈশপ্রহরী কলেজের বিশাল ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় হিমশিম খাচ্ছেন। আনসার নিয়োগেও জটিলতা আছে। পুলিশ ফাঁড়ি কিংবা নিরাপত্তাচৌকি স্থাপনের জন্য পুলিশ সুপারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন