বিজ্ঞাপন

বেলা একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে ছাত্রলীগের টেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এম আবদুস সোবহান উপাচার্য হিসেবে তাঁর শেষ কর্মদিবসে ১৩৭ জনকে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে আলোচনার জন্ম দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আবদুল্লাহ আল মাসুদ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর সাত শতাধিক পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। এসব পদের বিপরীতে নিয়োগের জন্য তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছিলেন। সদ্য সাবেক উপাচার্য ৫ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের আওতায় অর্পিত ক্ষমতাবলে শূন্য পদের বিপরীতে ছয় মাসের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দেন। নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাবেক-বর্তমান নেতা-কর্মী, আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। তাঁদের অনেকের ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ, তাই বেকার ও মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন।

নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির নিয়োগপত্রের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ৬ মে যোগদান করেছেন উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালামকে দিয়ে আমাদের যোগদানের চলমান প্রক্রিয়া ৮ মে স্থগিত ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। আমাদের জানামতে, নিয়মিত উপাচার্যের প্রদানকৃত নিয়োগ, রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য স্থগিত করতে পারেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নিয়োগ পাওয়া সাংবাদিক মো. আনিসুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফারুক হোসেন, সাবেক সহসভাপতি ইলিয়াস হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নিয়োগ পাওয়া সাংবাদিক মো. আনিসুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফারুক হোসেন, সাবেক সহসভাপতি ইলিয়াস হোসেন। এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে ভিসি স্যারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল। হয়তো তিনি নানা কারণে আগে নিয়োগ দিতে পারেননি। কিন্তু যখন শেষ সময়, তখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। আমরা সরাসরি আবদুস সোবহান স্যারকেই সিভি দিয়েছি। হয়তোবা যারা দূরে ছিল, তারা অন্য কোনোভাবে দিয়েছে।’

তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়োগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিয়ে সিলগালা করে দিয়েছে। সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ স্থানে রাখা আছে। আমি দেখিনি, তাই বলতেও পারব না।
আবদুস সালাম, রেজিস্ট্রার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবদুস সালাম বলেন, ‘নিয়োগের কাজে আমি ছিলাম না। কাজেই এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। ৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। কমিটির সদস্যরা তদন্ত চলমান থাকায় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করার সুপারিশ করেন। তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়োগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিয়ে সিলগালা করে দিয়েছে। সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ স্থানে রাখা আছে। আমি দেখিনি, তাই বলতেও পারব না।’

সংবাদ সম্মেলনস্থলের পাশে ও প্রশাসন ভবনের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩০-৩৫ জন উপস্থিত ছিলেন। এত কমসংখ্যক ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফারুক হোসেন বলেন, ঈদসহ নানা কারণে অনেকে রাজশাহীর বাইরে গেছেন। তা ছাড়া সবার বাড়ি রাজশাহীতে নয়।

নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দ্রুত কর্মস্থলে তাঁদের যোগদানের সুব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ, শিক্ষক সমিতি, অফিসার সমিতি, কর্মচারী ইউনিয়নসহ সবাইকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন