জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বন্যা-পরবর্তী বিপর্যস্ত জনজীবনের দুর্ভোগ দূর করতে সরকারের সব সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করছে। সেনাবাহিনীও তাদের প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চলমান উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে তৎপর হওয়ার জন্য তিনি সেনাসদস্যদের নির্দেশনা দেন।

ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বন্যার্তদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম বিশেষ গুরুত্বসহকারে পরিচালিত হবে বলে সেনাপ্রধান উপস্থিত সবাইকে নিশ্চয়তা দেন। এ সময়ে সেনাবাহিনী প্রধানের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাইরেক্টর জেনারেল অব মেডিকেল সার্ভিস মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান। পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল মো. আবু সাঈদ সিদ্দিক, মেজর জেনারেল মুহাম্মদ যুবায়ের সালেহীন, জিওসি ১৭ পদাতিক ডিভিশন মেজর জেনারেল হামিদুল হকসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর ১৭ এবং ১৯ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার মোট ২০টি উপজেলায় বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় মোতায়েন রয়েছে। মোতায়েনরত সেনাসদস্যরা নিরলসভাবে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার ও দুর্গতদের মধ্যে খাবার বিতরণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ পর্যন্ত সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার বন্যাকবলিত এলাকায় এ পর্যন্ত ১২ হাজার ১৪৮ জন বন্যাদুর্গত মানুষকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। ১৪ হাজার ৭৫০ জনকে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে। ২১ হাজার ৯৬৮ জনের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ, ৫৫ হাজার ১৩৬টি পরিবারের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছে। এর পাশাপাশি বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ৫৪ হাজার ৮২৮ লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ওষুধ বিতরণ করেছে। প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্য সব ফরমেশন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং যত দিন প্রয়োজন, তত দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন