সব কাজে টাকা চাওয়া নির্বাচন কর্মকর্তাকে বান্দরবানে বদলি

নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে বান্দরবানের লামা উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। একই কার্যালয়ের অপর দুই কর্মচারী অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক টুম্পা রানী সাহাকে হাওর–অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম এবং অফিস সহায়ক নবী নোয়াজকে নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলামের নিজ কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ লেনদেনের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ ২৪ মার্চ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নজরে এলে ওই তিনজনকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ নিয়ে আজ সোমবার প্রথম আলোতে ‘সব কাজে টাকা চান তিনি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

তিনজনের বদলির সত্যতা নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম। তিনি বলেন, তিনজনের কারও কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব এতটুকু গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে বিষয়টি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে মতামত পাঠানোর পরপরই তাঁদের কুলিয়ারচর থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। এই বদলি শাস্তিমূলক কি না, এমন প্রশ্নে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, আদেশে এমন কিছু নেই। তবে ধারণা করা যায় অনেক কিছু।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ বিড়ম্বনায় পড়েছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য নাছিমা আক্তার। তিন কর্মকর্তার বদলির পর তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছোট থেকে সিনেমায় দেখে আসছি সরকারি কোনো কর্মকর্তা অপরাধ করলে তাঁকে বান্দরবান পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। বাস্তবে আর এমনটা হতে দেখি না। এই প্রথম দেখলাম, অপরাধ করার পর এক সরকারি কর্মকর্তাকে বান্দরবানের লামায় বদলি করা হলো।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। এখন সেই প্রস্তুতি চলছে। মামলা হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি পথ তৈরি হবে।

এদিকে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভৈরব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহাকে। তিনি বলেন, ‘আমার চ্যালেঞ্জ হবে কুলিয়ারচর নির্বাচন কার্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।’

আরও পড়ুন

বারবার চেষ্টা করেও শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তিনি গতকাল থেকে ফোন ধরছেন না। টুম্পা রানী সাহা ও নবী নোয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরাও ফোন ধরেনি। তবে তাঁরা অন্য সাংবাদিকদের কাছে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার ওপর দায় চাপিয়েছেন।