বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মারধরের শিকার নজরুল ইসলাম পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য পাইকার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাথরঘাটা পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ হাচানুর বলেন, ‘নজরুলকে মারধরের বিষয়ে গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সত্য নয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমার সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য এমন অসত্য অভিযোগ তুলছে।’

লিখিত বক্তব্যে সাংসদ বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত ফুটবল খেলার প্রধান অতিথি হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে মোটরসাইকেলে অনুষ্ঠানস্থলে রওনা দেন। পথে নজরুল ইসলাম একটি মাইক্রোবাস নিয়ে তাঁর সামনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চালাচ্ছিলেন। সে সময় বহরে থাকা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা মাইক্রোবাসটির সামনে গিয়ে সাইড না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম তাঁর (সাংসদ) সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করেন। তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে নজরুল ইসলাম তাঁর কাছে এসে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চান। তিনি এ সময় নজরুলকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলি, ‘যাও, ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই।’ ওই ঘটনাকে বিকৃত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। এসব সংবাদে নজরুলকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু নজরুল ইসলাম ছাত্রলীগের নেতা ছিল না, দাবি সাংসদের।

ব্যবসায়ী নজরুলকে গালিগালাজ করে খেলার মাঠের মঞ্চে ডেকে নিয়ে সাংসদ চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় সাংসদ তাঁর পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নজরুল।

সাংসদ তাঁকে ঘিরে আগের কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষরা সব সময় আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অসত্য সংবাদ পরিবেশন করায়। পাথরঘাটা হাসপাতালের চিকিৎসক শাহনাজ পারভীন ডিউটি না করে এসে হিসাবরক্ষকের সহযোগিতায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে প্রতি মাসে বেতন তুলে যেতেন। আমি এ ঘটনা জানতে পেরে ওই হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষকের সঙ্গে রাগ করেছিলাম। অথচ আমার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা হলো, আমি প্রধান সহকারীকে লাঞ্ছিত করেছি। এটা সঠিক নয়। ইদ্রিস চৌধুরী নামের এক লোককে আমি মারধর করেছি বলে সংবাদ হয়। অথচ পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার কোনো সত্যতা পায়নি। দুই প্রকৌশলীকে মারধর করে পাথরঘাটা সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি, এমন সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। অথচ প্রকৃত ঘটনা ছিল, সরকারি কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজে ব্যাপক অনিয়ম আমার চোখে ধরা পড়ে। প্রকৌশলীরা ঠিকমতো কাজ করছিলেন না। এ জন্য স্থানীয় লোকজন কাজ বন্ধ করে দেয়।’

সাংসদ সংবাদ সম্মেলনে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন, তা সব অসত্য। মারধর করেননি বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা–ও সত্য নয়। ঘটনার দিনে ছাত্রলীগের চার-পাঁচজন নেতা আমাকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে যায়। পরে মঞ্চে সাংসদ আমাকে মারধর করেন।
নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক, পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য পাইকার সমিতি

সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, ‘পাথরঘাটায় চীনের একটি প্রকল্পে স্থানীয় চরদুয়ানী বাজারসংলগ্ন একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেখানে প্রিয়াঙ্কা মিত্র নামের এক নারী রাস্তার ঢালে সরকারি জমিতে ছোট একটি ঘর তুলে মন্দির তৈরি করে কাজে বাধা দিচ্ছিলেন। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রিয়াঙ্কা মিত্রকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। আমিও ক্ষতিপূরণ নিয়ে সরকারি জমি ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রিয়াঙ্কা সেই জমি দখল করে আছেন। অথচ আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, আমি সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব মৃধা, আব্বাস হোসেন মন্টু মোল্লা, জ্যেষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার, পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির, পাথরঘাটা পৌর মেয়র আনোয়ার আকন্দ, বেতাগী উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান, বেতাগী পৌর মেয়র গোলাম কবির, পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে সাংসদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সাংসদ সংবাদ সম্মেলনে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন, তা সব অসত্য। মারধর করেননি বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা–ও সত্য নয়। ঘটনার দিনে ছাত্রলীগের চার-পাঁচজন নেতা আমাকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে যায়। পরে মঞ্চে সাংসদ আমাকে মারধর করেন। আমি কোনো সন্ত্রাসী নই।’

এর আগে মারধরের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জমাদ্দার প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘দেখেছি এমপি চড়-থাপ্পড় মেরেছেন। মনে হয় কোনো বেয়াদবি করেছেন।’

সে সময় পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মারধরের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি মঞ্চে আসার পর সাংসদ তাঁকে জানান, তাঁর মোটরসাইকেলবহরকে সাইড না দেওয়া নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে তিনি মঞ্চে ডেকে মারধর করেছেন। সাংসদের এমন আচরণ ঠিক নয়। তিনি অহরহ এমন কাজ করে থাকেন। তাঁর এমন আচরণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন