default-image

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় একটি সমবায় সমিতির কর্মকর্তাকে দিনভর আটকে রেখে নির্যাতন ও টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইকবাল জাহিদ (৪০) অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আজ সোমবার অভয়নগর থানায় মামলা করেছেন। এর আগে রোববার গভীর রাতে উপজেলার একটি বিল থেকে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন উপজেলার বুনোরামনগর গ্রামের এম এম শামছুর রহমানের ছেলে এম এম রুবেল হাসান ওরফে বাবু (৩৩), উপজেলার নওয়াপাড়া প্রফেসরপাড়ার মানিক মোল্যার ছেলে আকাশ মোল্যা (২৪), উপজেলার বুইকারা মুজিবর হাওলাদারের ছেলে রবিউল ইসলাম (৩৫), নওয়াপাড়া পঁচকবর এলাকার গণি সরদারের ছেলে আবদুল মালেক (৩২), ইছামতি গ্রামের জাহিদ খানের ছেলে ইমরুল হোসেন খান (২৮), তাঁর বোন কনা বেগম (২৫), যশোরের কাঁঠালতলা এলাকার শফিউল ইসলামের ছেলে সোহেল হোসেন (২৮) এবং একই এলাকার আবু ইউসুফের ছেলে আরমান হোসেন (২৩) ও কামরুল ইসলামের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন (২৩)।

স্থানীয় শুভরাডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাস বলেন, কনা বেগমসহ গ্রামের অনেকেই ওই সমবায় সমিতিতে লেনদেন করতেন। তাঁরা সমিতির কাছে টাকা পেলেও কর্মকর্তারা টাকা না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘোরাচ্ছিলেন। এ নিয়ে ঝামেলা থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন।

বিজ্ঞাপন
ইকবাল জাহিদ অভিযোগ করেন, রাত ১২টার দিকে তাঁরা সরখোলা গ্রামের বিলের মধ্যে তাঁকে নিয়ে হত্যা করতে উদ্যত হন। এ সময় জাহিদ তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে দ্রুত বিকাশ হিসাবে টাকা পাঠানোর কথা বললে অপহরণকারীরা শান্ত হন।

ভুক্তভোগী ইকবাল জাহিদ বলেন, তাঁর বাড়ি অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রামে। তিনি যশোরকেন্দ্রিক আল আরাফা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির মাঠ কর্মকর্তা। রোববার সকাল ৮টার দিকে তিনি সমিতির ১০ জন সদস্যের সঞ্চয়ের ৭০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য উপজেলার ইছামতি গ্রামের কনা বেগমের বাড়িতে যান। এ সময় কনা বেগম ও তাঁর ভাই ইমরুল হোসেন স্থানীয় কিছু লোকজন নিয়ে তাঁকে ঘরে আটকে রাখেন। তাঁরা জাহিদের কাছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তাঁদের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য তিনি এ সময় সমিতির প্রধান কার্যালয়ের হিসাবরক্ষককে টাকা পাঠানোর কথা বলেন। এরপর অপহরণে অভিযুক্ত মো. শাকিল সমিতির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারীরা তাঁকে মুক্তি দেননি।

ইকবাল জাহিদ অভিযোগ করেন, রোববার সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা তাঁকে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারের শৌখিন পরিবহনের কাউন্টারে নিয়ে আসেন। এ সময় তাঁরা বিকাশ হিসাবের মাধ্যমে তাঁর কাছে আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় সেখানে তাঁকে মারধর করা হয়। এরপর নওয়াপাড়ার পাঁচকবর এলাকায় মালেকের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বেদম প্রহার করা হয়। পরে তাঁকে পুনরায় মাইক্রোবাসে করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১২টার দিকে তাঁরা সরখোলা গ্রামের বিলের মধ্যে তাঁকে নিয়ে হত্যা করতে উদ্যত হন। এ সময় জাহিদ তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে দ্রুত বিকাশ হিসাবে টাকা পাঠানোর কথা বললে অপহরণকারীরা শান্ত হন। তাঁর স্ত্রী বিষয়টি অভয়নগর থানায় জানান।

তাঁরা সমবায় সমিতির কাছে টাকা পেতেন। কিন্তু টাকা না দিয়ে কর্মকর্তারা নানা টালবাহানা করছিলেন। এ নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগও করেছেন।
গ্রেপ্তারের পর থানা হেফাজতে কনা বেগম

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে অপহরণকারীদের মুঠোফোন ট্র্যাকিং করে তাঁদের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। এরপর রাত আড়াইটার দিকে সরখোলা গ্রামের বিলের মধ্যে অভিযান চালিয়ে রুবেল, মালেক ও আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে অপহৃত কর্মকর্তা ইকবাল জাহিদকে উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে রবিউল ইসলাম, ইমরুল হোসেন খান, কনা বেগম, সোহেল হোসেন, আরমান হোসেন ও ইব্রাহিম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর থানা হেফাজতে কনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা সমবায় সমিতির কাছে টাকা পেতেন। কিন্তু টাকা না দিয়ে কর্মকর্তারা নানা টালবাহানা করছিলেন। এ নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগও করেছেন। রোববার ওই কর্মকর্তা গ্রামে এলে ক্ষোভ থেকে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটকে রেখেছিলেন।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ইকবাল জাহিদ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৫ জন অপহরণকারীর নামে থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনায় জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মঙ্গলবার আদালতে নেওয়া হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0