default-image

ফেনীতে সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ছেলে ও পুত্রবধূর মারপিটে সামছুল হক ওরফে লাতু মিয়া (৮০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, সামছুল হকের চার ছেলে। সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ ও পারিবারিক বিরোধের কারণে ছেলেরা বাবার থেকে আলাদা হয়ে সংসার করেন। এসব বিষয় নিয়ে প্রায়ই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হয়। আজ শনিবার বিকেলে গাছের কাঁঠাল কাটাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও পুত্রবধূ নাছিমা আক্তার (২৮) বৃদ্ধ বাবাকে গালমন্দ করতে থাকেন। বাবা ঘর থেকে বের হয়ে গালমন্দের প্রতিবাদ করলে তাঁরা আরও ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে বৃদ্ধের ওপর হামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

তারা বৃদ্ধকে কিলঘুষি ও লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি পেটাতে থাকেন। ঘটনা দেখে বড় ছেলে বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী এগিয়ে যান। তাঁকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। এ সময় বাড়ির অন্য লোকজন এগিয়ে গিয়ে সামছুল হককে উদ্ধার করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক সাহাব উদ্দিন তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আতোয়ার রহমান, ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন, স্থানীয় শর্শদি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জানে আলম ভূঞা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ছেলের লাঠির আঘাতে বৃদ্ধ বাবার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে ছেলে সাইফুল ইসলাম ও পুত্রবধূ নাছিমা আক্তার বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন