default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আদালতের রায়ের পরও সম্পত্তি না পেয়ে দেশ ত্যাগের হুমকি দিয়েছে একটি পরিবার। পরিবারটির ১১ জন সদস্য আজ সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত এই অনশন কর্মসূচি চলে। পরে ইউএনও আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে পরিবারটি কর্মসূচি স্থগিত করে। এ সময় তাঁরা ইউএনওর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন।

আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের প্রয়াত রাখাল চন্দ্র বণিকের পরিবারের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৪। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে প্রায় ৮ বছর আগে রাখাল চন্দ্র বণিক মারা যান। এরপর থেকে তাঁর ছোট ছেলে শিপন বণিক মামলা পরিচালনা করছেন। শহরে প্রসাধনীর দোকান রয়েছে শিপনের। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম ও তাঁর ছোট ভাই বিল্লাল মিয়ার সঙ্গে বাড়ির জায়গা নিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে তাঁদের বিরোধ চলে আসছে। তাজুল ইসলাম ও বিল্লাল মিয়া ২০০১, ২০১০ ও সর্বশেষ ২০১৯ সালে আদালতে মামলা করেন। মামলায় এখন পর্যন্ত ৪টি রায় হয়, যার সবই রাখাল চন্দ্র বণিকের পরিবারের পক্ষে আসে।

প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম ও তাঁর ছোট ভাই বিল্লাল মিয়ার সঙ্গে বাড়ির জায়গা নিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে রাখাল চন্দ্র বণিকের পরিবারের বিরোধ চলে আসছে। তাজুল ইসলাম ও বিল্লাল মিয়া ২০০১, ২০১০ ও সর্বশেষ ২০১৯ সালে আদালতে মামলা করেন। মামলায় এখন পর্যন্ত ৪টি রায় হয়, যার সবই রাখাল চন্দ্র বণিকের পরিবারের পক্ষে আসে।

রাখাল চন্দ্র বণিকের পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, মামলা চালাতে গিয়ে তাঁরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আদালতের রায় পেলেও প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম ও বিল্লাল মিয়ার কাছ থেকে জায়গা বুঝে পাচ্ছেন না। তাই ১৯ নভেম্বর নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্র হস্তান্তর করে দেশ ত্যাগের হুমকি দেন। পরদিন তাঁরা রাধানগরে নিজ বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে তাঁরা বলেন, ২৩ নভেম্বর (আজ) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আখাউড়ার ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। দাবি আদায় না হলে আখাউড়া স্থলবন্দরে হাজির হয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র হস্তান্তর করে ভারত কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয়ের প্রার্থনা করে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

বিজ্ঞাপন
আদালতের রায় পেলেও প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম ও বিল্লাল মিয়ার কাছ থেকে জায়গা বুঝে পাচ্ছি না। তাই নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্র হস্তান্তর করে দেশ ত্যাগের হুমকি দিয়েছি।
রাখাল চন্দ্র বণিকের পরিবারের সদস্যরা

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শিপন বণিকের সঙ্গে তাঁর মা, দুই ভাই, ভাইদের স্ত্রী, বোন, চার ভাতিজিসহ পরিবারের মোট ১১ সদস্য অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। দুপুরে ইউএনও হাজির হয়ে তাঁদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় তাঁরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন। পরে আজকের মতো কর্মসূচি বাতিল করেন।

তবে প্রয়াত রাখাল চন্দ্র বণিকের পরিবারের দাবি মিথ্যা দাবি করে গতকাল রোববার সকালে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন বিল্লাল মিয়া ও তাঁর বড় ভাই তাজুল ইসলাম। এ সময় তাঁরা শিপন বণিকের পরিবারের করা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অভিযোগকারীদের কোনো জায়গা আমাদের দখলে নেই। আমাদের সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করার জন্য তাঁরা এসব মিথ্যা অভিযোগ করছেন। প্রায়ই তাঁরা আমাদের নানাভাবে গালমন্দ করে থাকলেও কিছু বলি না।
বিল্লাল মিয়া, অভিযুক্ত জমি দখলকারী

জানতে চাইলে বিল্লাল মিয়া আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাড়ির ২৫ শতক জায়গা আমার মা ফাতেমা বেগমের নামে কেনা। ওই জায়গায় ৫৩ বছর ধরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। বাংলাদেশ সরকারের ভূমি জরিপে মাঠ পরচা মূলে বিএস ৭১৪ নম্বর চূড়ান্ত খতিয়ান আমাদের নামে হয়েছে। আমরা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছি। অভিযোগকারীদের কোনো জায়গা আমাদের দখলে নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করার জন্য তাঁরা এসব মিথ্যা অভিযোগ করছেন। উপরন্তু আমরা তাঁদের হুমকি-ধমকির শিকার। প্রায়ই তাঁরা আমাদের নানাভাবে গালমন্দ করে থাকলেও কিছু বলি না।’

ইউএনও নূর এ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিপন বণিকের পরিবারের কথা শুনেছি। তাঁরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তাঁরা সম্পত্তির মামলার রায় পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি হয় আলোচনা সাপেক্ষে নতুবা আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সমাধান করা হবে।’

মন্তব্য করুন