সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় শেকলে বেঁধে বৃদ্ধকে ‘নির্যাতন’, গ্রেপ্তার ২

অপরাধ
প্রতীকী ছবি

ছেলেদের নামে সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় আবদুর রাজ্জাক (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে শেকলে বেঁধে তালাবদ্ধ রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ সময় ওই বৃদ্ধের স্ত্রী হামিদা আক্তার (৫৮) ও বড় ছেলে সেলিম মিয়াকে (৪০) আটক করা হয়। আজ রোববার সকালে নির্যাতনের শিকার ওই বৃদ্ধ বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে পুলিশ আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের মনাটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশ রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী এবং মনাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রাজ্জাক অবসরের পর থেকে গ্রামের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। তাঁর ১০০ শতকের মতো জমি আছে। ওই জমি তাঁর তিন ছেলের নামে লিখে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ছেলেরা ও তাঁর স্ত্রী হামিদা আক্তার তাঁকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনি এতে রাজি না হওয়ায় এক মাস ধরে ছেলেরা তাঁকে নির্যাতন করেন।

প্রতিবেশী শান্তি খানের দাবি, আবদুর রাজ্জাক সুস্থ–সবল মানুষ। তাঁর সামান্য একটু জমি আছে। ওই জমির জন্য তাঁর স্ত্রী, বড় ছেলে সেলিম মিয়া, মেজ ছেলে শাহীন মিয়া ও ছোট ছেলে মামুন মিয়া প্রতিনিয়ত তাঁকে মারধর করে ঘরে শেকলবন্দী করে রাখেন।

মনাটিয়া গ্রামের বুলবুল ভূঁইয়া বলেন, আবদুর রাজ্জাককে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিবারের লোকজন অমানবিক নির্যাতন করে আসছে। এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী কল্যাণী হাসান বলেন, জমি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধ আবদুর রাজ্জাককে নির্যাতনের ঘটনা শুনে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ নিয়ে আবু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ঘরে শেকলবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তবে আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী হামিদা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী বদমেজাজি। সন্তানদের সঙ্গে তিনি খারাপ ব্যবহার করেন। প্রতিবাদ করলে আমাদের গালিগালাজ করে জমি অন্যের নামে লিখে দেওয়ার হুমকি দেন। তাই এক মাস ধরে তাঁকে শেকলবন্দী করে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। নিয়মিত খাবার দেওয়া হতো। তাঁকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি।’

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে আজ রোববার দুপুরে বলেন, শেকলবন্দী অবস্থায় বৃদ্ধকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে তাঁর মেয়ে নুরুন্নাহারের জিম্মায় তাঁকে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন।