ক্লাসে ফেরা নিয়ে শঙ্কা ছিল। সব শঙ্কা কেটে গেছে। অনেক দিন পর নিজের শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে।
হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল, শিক্ষক, বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়

হৃদয় মণ্ডলের সহকর্মী বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক শিক্ষক সজল সূত্রধর বলেন, হৃদয় স্যারের পাঠদান চমৎকার। তিনি বিজ্ঞান ও গণিত বিষয় খুব ভালো বোঝান। তিনি না থাকায় বিদ্যালয়ে একটা শূন্যতা ছিল। আজ যোগ দেওয়ার পর আবার সবকিছু পূর্ণ হলো।

আজ সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে আলোচনা সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি সমর ঘোষ, জেলা মহিলা পরিষদের সহসভাপতি হামিদা খাতুন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আক্তার, কেন্দ্রীয় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সদস্য রঞ্জন সাহা, মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন, বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আলমগীর খান প্রমুখ।

শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ক্লাসে ফেরা নিয়ে শঙ্কা ছিল। সব শঙ্কা কেটে গেছে। অনেক দিন পর নিজের শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে আছে। শিক্ষার্থীরাও তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তিনি আশা করছেন, আর কোনো সমস্যা হবে না। আগের মতোই নিজের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।

শ্রেণিকক্ষে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে গত ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আসাদ বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই দিনই হৃদয় মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৩ ও ২৮ মার্চ আদালতে তাঁর জামিন চাওয়া হয়েছিল। সে সময় আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন। এ নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর ১০ এপ্রিল জামিনে কারামুক্ত হন হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বিনোদপুর রামকুমার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীন বলেন, বিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করা হবে। এর মধ্যে যে কয়দিন হৃদয় মণ্ডলকে আদালতে হাজিরা দিতে হবে, সে কয়দিন বিদ্যালয় থেকে তাঁর ছুটির ব্যবস্থা করা হবে।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ মার্চ শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে তাঁকে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তাঁকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত কারাবাস করতে হয়। কারাবাস থেকে আসার পর আবারও পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। চার কার্যদিবসের মধ্যে তিনি নোটিশের জবাব দেন। আজ মঙ্গলবার তিনি তাঁর ক্লাসে ফিরেছেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। শিক্ষার্থীরাও তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন