এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অল্পস্বল্প পৃষ্ঠপোষকতা পেলেই হোসিয়ারি শিল্প হয়ে উঠতে পারে দেশের অর্থনীতির বড় এক শক্তি। সামান্য ঋণ আর ভালো পরিবেশের ব্যবস্থা করা এবং খুচরা যন্ত্রপাতি আমদানির ওপরে শুল্ক কমালেই এ খাতে রপ্তানিমুখী কারখানার সংখ্যা হুড়হুড় করে বাড়বে। আসবে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা।

নারায়ণগঞ্জ শহরের নয়ামাটি এলাকা আর হোসিয়ারি শিল্পের যাত্রা শুরুর কাহিনি এক সূত্রে গাঁথা। এলাকাটি শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষারযুক্ত পানির নদীর মধ্যে শীতলক্ষ্যা অন্যতম। এ পানিতে আয়রন ও খনিজ পদার্থের পরিমাণ কম। শীতলক্ষ্যা নদীর পানি ছিল খুবই স্বচ্ছ। এমন পানিতে ডাইং করা কাপড় ধবধবে সাদা হয়ে যায়। সেই কাপড়ের তৈরি স্যান্ডো গেঞ্জি ও হাফহাতা গেঞ্জির খ্যাতি শুধু দেশজোড়া নয়, বিদেশেও এর কদর চোখে পড়ার মতো। নারায়ণগঞ্জে হোসিয়ারি শিল্পের প্রসারের অন্যতম কারণ ছিল এটি। তা ছাড়া সুতা তৈরির কারখানাও ছিল হাতের নাগালে। নদীপথে যাতায়াতের সুবিধা নিতে শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে ওঠে বহু সুতার কারখানা। ফলে হোসিয়ারি শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটে এ এলাকায়।

শুরুর এসব কাহিনি জানা যায় নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস নামের একটি বই থেকে। ১৯৮৫ সালে জেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় সুধীজন পাঠাগার উদ্যোগে রচিত হয় বইটি। ওই বইয়ের পাশাপাশি হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে এ শিল্পের প্রতিষ্ঠা ও অগ্রযাত্রার ইতিহাস পাওয়া যায়।

১৪৮১ সালে নিটিং বা বুননকাজ যান্ত্রিকভাবে শুরু হয় লন্ডনে। ব্রিটিশ আমলে বাংলার শিল্পকারখানা বিস্তার লাভ করেছিল কলকাতাকেন্দ্রিক। তখন নদীবন্দর হিসেবে পূর্ব বাংলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। এলাকাটা হয়ে ওঠে পাট ব্যবসার কেন্দ্র। স্থাপিত হয় পাটকল। পাটশিল্প বিস্তৃতি লাভের একপর্যায়ে ১৯১৬ সালে স্থাপিত হয় ‘হংস হোসিয়ারি’। সেটাই ছিল প্রথম হোসিয়ারি কারখানা। ওই সময় স্থানীয় ঢাকেশ্বরী, লক্ষ্মী নারায়ণ, চিত্তরঞ্জন ইত্যাদি সুতার কারখানাগুলো থেকে সহজেই সুতা পাওয়া যেত। দেশের অন্যতম সুতার ব্যবসা ছিল নারায়ণগঞ্জে। তৎকালীন প্রধান নৌবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশন এ নারায়ণগঞ্জেই ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় এ অঞ্চলে হোসিয়ারি পণ্যের চরম ঘাটতি দেখা দেয়। এ কারণে পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই ব্যক্তিগত ও বেসরকারি পর্যায়ে ১৯৫০ সালে নারায়ণগঞ্জে হোসিয়ারি শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে। তাঁত ও পাটশিল্পের অস্তিত্ব বিলোপ হওয়ার পর হোসিয়ারি শিল্পের কদর আরও বেড়ে যায়।

হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠা পাকিস্তান আমলে, ১৯৫২ সালে। ইস্ট পাকিস্তান হোসিয়ারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসোসিয়েশন নামের সংগঠনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীকালে ১৯৬১ সালে হোসিয়ারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে জন্ম নেয়। ১৯৬৫ সালে হোসিয়ারি শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশন নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

হোসিয়ারি শিল্পের উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এটি স্বল্প পুঁজির ব্যবসা। ছোট্ট একটা ঘর আর সেলাই মেশিন, ওভারলক, লক মেশিন, ইস্ত্রি ও কাঁচি—এ কয়েকটি যন্ত্র থাকলেই চলে। এর বাইরে কাপড় কেনা ও ডাইং করার জন্য অল্প পুঁজি লাগে। চাইলে কারখানায় কোনো শ্রমিক নিযুক্ত না করলেও চলে। কারখানার মালিক নিজেই কাপড় কাটা ও সেলাইয়ের কাজটা চালিয়ে নিলেই হলো।

শহরের নয়ামাটি বৃষ্টি হোসিয়ারি কারখানার মালিক আবদুল হাই বলেন, তিনি ১৯৮০ সালে হোসিয়ারি কারখানায় কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন। ১০ বছর কর্মচারী হিসেবে কাজ শেখার পর ১৯৯০ সালে ৪০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে নিজেই কারখানা দেন। এ ব্যবসা করে সংসার চালিয়ে ভালো আছেন। বাড়িঘর, দোকানসহ অনেক কিছু করেছেন।

নারায়ণগঞ্জে তখন কম মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া যেত। কম খরচে করানো যেত ডাইং। এলাকায় গড়ে ওঠে নিম্নমানের ডাইং কারখানা। সেখান থেকে কম খরচে ডাইং করিয়ে নিতে পারতেন কারখানা মালিকেরা।

ঘিঞ্জি পরিবেশ, উদ্যোগ নিলেও সরেনি হোসিয়ারিপল্লি

এমন সব সুবিধাকে সামনে রেখেই প্রায় ১০০ বছর আগে নয়ামাটি এলাকায় হোসিয়ারি শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরে তা শহরের উকিলপাড়া ও দেওভোগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তিনটি এলাকাতেই গাদাগাদি করে উঠেছে বাড়ি। হোসিয়ারি কারখানার সঙ্গে আছে বিক্রয়কেন্দ্রও। সব মিলিয়ে চরম ঘিঞ্জি এক এলাকা।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নয়ামাটি এলাকার একটি কারখানার মালিক মো. ফরহাদ। বললেন, নয়ামাটির পুরোটাই ঘিঞ্জি এলাকা। একটি ভবন আরেকটি ভবনের গা ঘেঁষে উঠেছে। একই ভবনে অনেক কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এখানে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়েই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

কারখানাশ্রমিক মো. শাওন বলেন, এলাকার রাস্তাগুলো সরু। দুর্ঘটনা ঘটলে রেহাই পাওয়ার আশা ক্ষীণ। কারণ, আগুন নেভাতে বা উদ্ধারকাজের জন্য ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না। আবার কারখানার মধ্যে অল্প জায়গায় গুদাম। সেখানেই মেশিনে কাজ করতে হচ্ছে তাঁদের। পোশাক তৈরির কাজে ইস্ত্রি ব্যবহার করতে হয়। অনেক সময় এ যন্ত্র থেকে অসতর্কতাবশত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে সরকারও ওয়াকিবহাল। সমস্যার সমাধানে তারা উদ্যোগীও হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ হোসিয়ারি শিল্পের জন্য কাজে লাগেনি হোসিয়ারিমালিকদের কারণেই। ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা হোসিয়ারি কারখানাগুলোকে এক জায়গায় পুনর্বাসন ও নতুন হোসিয়ারি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগটা নেওয়া হয় ১৯৮৫ সালে। ওই বছর নতুন আঙ্গিকে মনোটাইপ শিল্পনগরী স্থাপনের পরিকল্পনা নেয় শিল্প মন্ত্রণালয়। ১৯৯০ সালে বিসিকের হরিহরপাড়া মৌজায় ৫৮ দশমিক ৫২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সেখানে মোট ৭১৪টি প্লট (৩ কাঠার ৫২৮টি এবং ৫ কাঠার ১৮৬টি) বরাদ্দ দেওয়া হয় হোসিয়ারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের। কিন্তু সেখানে হোসিয়ারি কারখানার পরিবর্তে গড়ে উঠেছে নিট পোশাক কারখানা। কারণ, অধিকাংশ হোসিয়ারিমালিক বরাদ্দ পাওয়া প্লট বিক্রি করে দিয়েছেন। দু-চারজন হোসিয়ারি ব্যবসায়ী সেখানে কারখানা গড়লেও হোসিয়ারি পণ্যের পরিবর্তে নিট পোশাক উৎপাদন শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে প্রকল্পের পুরোটাই হয়ে গেছে নিট গার্মেন্টস জোন। বর্তমানে ওই বিসিক শিল্পনগরীতে নিট পোশাকের কারখানা আছে ছোটবড় ৬৩০টি। এসব কারখানায় দুই লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক কর্মচারী নিয়োজিত আছেন। এখান থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

স্বাধীনতার আগে থেকে নয়ামাটি এলাকায় স্যান্ডো গেঞ্জি উৎপাদন করে ব্যবসা করে আসছে অসীম টেক্সটাইল। উত্তরাধিকার হিসেবে দাদা-বাবার ব্যবসা ধরে রেখেছেন তাপস কুমার। তিনি বলেন, তখন সবাই কমবেশি প্লট পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা আগপিছ ভেবে বিসিকে যাননি।

রিতা গার্মেন্টস প্রোডাক্টসের মালিক শওকত হোসেন বলেন, বরাদ্দ পেলেও তিনি ওই সময় প্লট নেননি। কারণ, তিনি মনে করেছিলেন, হয়তো প্লট বুঝিয়ে দেবে না। আবার নতুন জায়গায় ব্যবসা জমবে কি না, সব ব্যবসায়ী সেখানে যাবে কি না, এসব নিয়ে সংশয় ছিল। এসব ভেবে তখন প্লট নেননি তাঁর মতো অনেকেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক হোসিয়ারি ব্যবসায়ী জানান, সব ব্যবসায়ী একসঙ্গে না যাওয়ার কারণেই বিসিকপল্লিতে হোসিয়ারি কারখানা গড়ে ওঠেনি। নয়ামাটি ও আশপাশের এলাকায় এ শিল্পের কাঁচামাল, শ্রমিকসহ সবকিছু হাতের নাগালে ছিল। এত দূরে গেলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা জটিলতার শঙ্কা ছিল। নতুন জায়গায় গিয়ে এ শিল্প কতটুকু দাঁড়াবে, সেই ভয়ও ছিল। ফলে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি জেনেও ঘিঞ্জি পরিবেশে ব্যবসা চালিয়ে গেছেন।

সমস্যার অন্তর্জাল

ঘিঞ্জি পরিবেশের মতো আরও কিছু বড় সমস্যা রয়েছে হোসিয়ারি শিল্পকে ঘিরে। এ কারণে অপার সম্ভাবনা থাকলেও সেই তুলনায় এ শিল্পের তেমন বিকাশ ঘটেনি। হোসিয়ারি শিল্প বস্ত্র উপখাতভিত্তিক কুটির শিল্পের আওতাভুক্ত। কিন্তু জামানত দিতে না পারায় উদ্যোক্তারা পান না ব্যাংকঋণ। পুঁজির সংকটের কারণে অনেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এতে তাঁরা ব্যবসায় সুবিধা করতে পারেন না।

বৃষ্টি হোসিয়ারি কারখানার মালিক আবদুল হাই বলেন, হোসিয়ারির ব্যবসা করে লোকসান গুনেছেন, এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম। তবে যাঁরা উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসা করেছেন, তাঁরা হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হোসিয়ারি ব্যবসার জন্য ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ পাওয়া যায় না বলেও অনেকে অন্য কোনো উৎস থেকে চড়া সুদে ঋণ করে কারখানা দেন। কিন্তু সুদ টানতে টানতে অনেক ব্যবসায়ী লোকসান দিয়ে কারখানা গুটিয়ে চলে যান। কম সুদে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করা গেলে হোসিয়ারি শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন তিনি।

এ খাতের সফলতার জন্য হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশন যেসব সুপারিশ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম এই সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা। অ্যাসোসিয়েশন বলছে, তাদের সুপারিশ গ্রহণও করেছিল সরকার। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। তখন ক্ষুদ্র ও স্বল্প পুঁজির শ দুয়েক ব্যবসায়ী ঋণ পেয়েছিলেন। পরে ওই উদ্যোগ আর এগোয়নি।

পাকিস্তান আমল থেকে স্যান্ডো গেঞ্জির কারখানা বিউটি হোসিয়ারির। বর্তমানে উত্তরাধিকার হিসেবে রাণী মার্কেটে কল্যাণী হোসিয়ারি নামে ব্যবসা পরিচালনা করছেন রিপন বিশ্বাস। তিনি বলেন, আগে মানুষ অগ্রিম টাকা দিয়ে গেঞ্জি বানিয়ে নিয়ে যেতেন। বর্তমানে প্রতিযোগিতার বাজারে বাকিতে ব্যবসা করতে হচ্ছে। পণ্যের মান ঠিক রাখলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, সে অনুযায়ী তাঁরা দাম পাচ্ছেন না। অনেকে গার্মেন্টসের থান কাপড় দিয়ে গেঞ্জি তৈরি করে লাভবান হচ্ছেন। এতে তাঁদের উৎপাদন খরচ কম হচ্ছে। এসব কারণে পুরোনো অনেক হোসিয়ারি ব্যবসায়ী সেদিকে চলে গেছেন।

অপার সম্ভাবনার হোসিয়ারি

শহরের নয়ামাটি, উকিলপাড়া, দেওভোগ, বন্দর, সদরঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট হোসিয়ারি কারখানা রয়েছে ৮ হাজার ৫০০টি। হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত ৩ হাজার ৫০০টি এবং অ্যাসোসিয়েশন–বহির্ভূত কারখানার সংখ্যা ৫ হাজার। এ খাতে শ্রমিকের সংখ্যা চার লাখের বেশি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হোসিয়ারি শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ খাতে পুঁজি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, রপ্তানি বাড়িয়ে আমদানি ব্যয় হ্রাস করা। এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে হোসিয়ারি শিল্প। কারণ, আগে হোসিয়ারি শিল্প বলতে বোঝাত শুধু স্যান্ডো গেঞ্জির ব্যবসা। এখন এ খাতে অন্তর্বাস, শিশুদের পোশাক, বড়দের টি–শার্ট, গেঞ্জি, মোজা, মাফলার, টুপি, সোয়েটারসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত পণ্য সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও হচ্ছে।

সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে আরও গতিশীল করতে উদার শিল্প নীতি প্রবর্তন করা দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম। তিনি বলেন, ‘হোসিয়ারি কারখানাগুলো নয়ামাটি, উকিলপাড়া, দেওভোগ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে সরকারের কাছ থেকে আমরা জমি বরাদ্দ চাই।’ হোসিয়ারি শিল্পের জন্য প্রচলিত ব্যাংকঋণ নয়, আলাদা নীতিমালা তৈরি করে ২ শতাংশ সরল সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ শিল্পের কাঁচামাল পুরোটাই আমদানিনির্ভর। তাই কাঁচামাল আমদানির ওপর থেকে শুল্ক ও ভ্যাট কমাতে হবে। হোসিয়ারি কারখানার মালিক থেকে অনেকে বিজিএমইএ-বিকেএমইএর সদস্য হয়েছেন। বড় বড় রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার মালিক হয়েছেন। এসব তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, হোসিয়ারি শিল্পকে পৃষ্ঠপোষকতা করা হলে শিল্পটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। এ শিল্প থেকে ধীরে ধীরে রপ্তানিমুখী কারখানার সংখ্যা বাড়বে। প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আসবে, শক্তিশালী হবে দেশের অর্থনীতি।