সরকারি কর্মচারীকে মারধর, যুবলীগ নেতাসহ দুজন কারাগারে

সরকারি কর্মচারীকে মারধর, যুবলীগ নেতাসহ দুজন কারাগারে
বিজ্ঞাপন

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক সরকারি কর্মচারীকে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় যুবলীগের স্থানীয় নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর আজ বুধবার দুপুরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ধুনট বাগবাড়ি সড়কের বেড়েরবাড়ি বাঙ্গালী নদীর সেতুর ওপর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

কারাগারে পাঠানো দুজন হলেন উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ (৩২) ও তাঁর সহযোগী মামুনর রশিদ ওরফে তপন (৪৭)। আপেল উপজেলার নান্দিয়ারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আর মামুনরের বাড়ি নিমগাছি গ্রামে। তাঁর (মামুনর) নামে ২০০৪ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত হত্যা, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজিসহ ৫টি মামলা আছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিমগাছি ইউনিয়নের নাংলু গ্রামে বাঙ্গালী নদীর চরে ২ একর ৫৮ শতক খাসজমিতে তিন মাস আগে সরকারিভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। প্রকল্পটির কাজ দেখভাল করছেন উপজেলার ভূমি কার্যালয়ের প্রসেস সার্ভেয়ার সোহরাব হোসেন। তিনি অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ তদারকি করতে যান। এ সময় সোহরাবের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন আপেল মাহমুদ, মামুনর রশিদ ও রেজাউল করিম। সোহরাব চাঁদা দিতে রাজি না হলে তাঁরা মারধর শুরু করেন। এ সময় সোহরাবের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আপেল ও মামুনরকে আটক করে। তবে পালিয়ে গেছেন রেজাউল করিম। গতকাল সন্ধ্যার দিকে সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে আপেল, মামুনর ও রেজাউলের নামে মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ৯০টি ভূমিহীন পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে নাংলু গ্রামের বাঙ্গালী নদীর চরে সরকারিভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ভূমি অফিসের প্রসেস সার্ভেয়ার সোহরাব হোসেনের কাছে চাঁদা দাবি করে না পেয়ে তাঁকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।

থানাহাজতে আটক থাকার সময় আপেল ও মামুনর দাবি করেন, তাঁরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তাঁদের ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আপেল ও মামুনরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার আরেক আসামি রেজাউলকে গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন