বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জলাবদ্ধতা নিরসনে বছরখানেক আগে কাটাখালী পৌরসভার ওপর দিয়ে যাওয়া খালটি ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পুনঃখনন করে। গত এপ্রিলের দিকে কাটাখালীর মেয়র সরকারি এই খালের ওপর ভবন নির্মাণ শুরু করেন। ১৯ জুলাই একতলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে সরকারি খালের ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে খালের ওপর প্রায় ১ হাজার ১৪৪ বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ শুরু হয়। এখানে ইতিমধ্যে দুইতলা ভবন উঠে গেছে। এই ভবন তিনতলা হবে। ভবনের দোকান হবে ২১টি। অন্যদিকে ব্রিজের উত্তর পাশে খালের ওপর আরেকটি ভবনের দুইতলা উঠে গেছে। এই ভবনে দোকান হবে মোট ছয়টি।

সরকারি খালের ওপর ভবন নির্মাণের অভিযোগ করেন পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত আগস্ট মাসে পবা উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর কয়েক দিন কাজ বন্ধ থাকলেও পরে আবার জোরেশোরে নির্মাণকাজ শুরু হয়।

এ নিয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর শেষ পাতায় ‘সরকারি খালে মেয়রের দুই ভবন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই দিনই ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন মেয়র। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর সম্পাদীয় পাতায় ‘খননের পর খালের ওপর ভবন’ শিরোনামে সম্পাদকীয় ছাপা হয়। এরপর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের নজরে আসে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন। প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। বর্তমানে ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। উচ্ছেদের নোটিশ আগেই করা আছে। শিগগিরই এটা উচ্ছেদ করা হবে।

আবদুল জলিল বলেন, সরকারি খালের ওপর ভবন নির্মাণ হয়েছে, এটা সবার কাছে দৃশ্যমান। তাই এ বিষয়ে আর তদন্তের প্রয়োজন হবে না। এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া বলতে এটা উচ্ছেদ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন