বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যদিও ভবন নির্মাণের কোনো সিদ্ধান্ত পৌরসভা থেকে নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর জেলা প্রশাসকের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন। খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ পেয়ে প্রশাসন ভবনের কাজ বন্ধ করে দিলেও কয়েক দিন পর আবারও সেই কাজ চলছে।

কাটাখালী পৌরসভার ঠিক মাঝ দিয়ে চলে গেছে খালটি। খালের ওপর দিয়ে গেছে ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়কের সেতু। এই সেতুর দুই পাশে খালের ওপর তিনতলা ভবন দুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছরখানেক আগে খালটি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করে। গত এপ্রিলের দিকে ভবন নির্মাণ শুরু হয়। মহাসড়কের সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত থেকে খালের ওপর প্রায় ১ হাজার ১৪৪ বর্গফুটের একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুইতলা ভবন উঠে গেছে। এতে দোকান হবে ২১টি। সেতুর উত্তর পাশে খালের ওপর আরেকটি ভবনেরও দুইতলা উঠে গেছে। এতে দোকান হবে ছয়টি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রমিকেরা ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। ভবনের পিলারগুলো খালের দুই পাশে করা হয়েছে। খালের নিচে সামান্য পানির প্রবাহ রয়েছে।

দক্ষিণ পাশে ওঠা ভবনে কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। তাঁরা জানান, কিছুদিন আগে প্রশাসনের লোকজন এসে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে মেয়র নাকি অনুমতি নিয়েছেন। তাই এখন কাজ চলছে।

পৌরসভা বাজারের এক দোকানি বলেন, এই খাল সংস্কারের আগে মেয়র মহাসড়কের উত্তর পাশে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পরে খাল খনন শুরু হলে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। সংস্কারের পর আবার ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে।

কাটাখালী পৌরসভার সাতজন কাউন্সিলর গত ২৪ আগস্ট রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে ভবন দুটি নির্মাণ নিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। তাঁদের মধ্যে ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মনজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জেলা প্রশাসক অভিযোগ পেয়ে সেদিনই ভবনের কাজ বন্ধ করার জন্য অভিযান চালান। কিন্তু কাজ কয়েক দিন বন্ধ থাকলেও পরে পুরোদমে শুরু হয়। মনজুর রহমান বলেন, এই খাল পুনঃখননের কারণে পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকবে না। এখন খালের ওপর ভবন নির্মাণ করলে কোনো একসময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করবে। আর খালের ওপর তিনতলা ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য ভূমিকম্পে যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর মেয়র আব্বাস আলী প্রথম আলোকে বলেন, এই খালে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা আটকে একরকম ভরাটই ছিল। আশপাশে অনেক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে দোকান চালিয়েছেন। তবে যখন বিএমডিএ খাল খনন করতে আসে, তখন এই মানুষগুলো বাধা দেন। ওই সময় বিএমডিএর সঙ্গে আলোচনা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করা হবে। এ জন্য পরিকল্পিতভাবে ভবনের কাজ চলছে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কাছে ওই ভবনগুলোর দোকান ভাড়া দেওয়া হবে।

মেয়র আরও বলেন, খালের ওপর ভবন নির্মাণের এখনো ভূমি কার্যালয় থেকে তাঁরা অনুমতি নেননি। তবে বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

তবে এ বিষয়ে পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি খালের ওপর কেউ কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারেন না। সরকারি কোনো অনুমোদন না থাকায় তিনি ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে তিনি মেয়রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। কিন্তু কোনো লিখিত উত্তর আসেনি। আবারও মেয়রকে নোটিশ করা হবে। সহকারী কমিশনার আরও বলেন, তিনি বিএমডিএকেও চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা জবাবে এটাকে ‘ইতিবাচক’ উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছেন। এটা তারা দিতে পারে না।

এ বিষয়ে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, আপাতত দেখা যাচ্ছে খালের পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে না। কিন্তু এ রকম জমিতে কিছু নির্মাণ করতে গেলে ভূমি অফিস থেকে অনুমতি নিতে হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালককে তিনি ফোন দেওয়ার অনুরোধ জানান।

তবে বিএমডিএর খাল পুনঃখনন প্রকল্পের পরিচালক মো. নাজিরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন