১০০ নম্বরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ৬ নম্বর প্রশ্নে একটি অনুচ্ছেদ অনুবাদ করতে বলা হয়। ওই অনুচ্ছেদে লেখা রয়েছে, ‘শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী বলা হয়। শ্রীমঙ্গলে ৯২টি চা–বাগান রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের চা খুবই উপাদেয়। কুলিরা হাত দিয়ে পাতা সংগ্রহ করে। প্রক্রিয়াজাত চা–পাতা থেকে চা উৎপন্ন করা হয়।’

অনুচ্ছেদের তৃতীয় বাক্যে চা-শ্রমিকদের কুলি সম্বোধন করা ছাড়াও চা–বাগানের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে চাকরিপ্রত্যাশী চা-শ্রমিকদের সন্তানেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একাধিক চাকরিপ্রত্যাশী চা–শ্রমিক শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, সকালে মৌলভীবাজার জেলায় পরীক্ষা দিতে গিয়ে বিষয়টি তাঁদের চোখে পড়ে। একরকম তাচ্ছিল্য করে চা-শ্রমিকদের কুলি বলায় তাঁরা অপমানিত বোধ করছেন।

এ বিষয়ে শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, প্রশ্নকর্তা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এ ভুলের দায় নিয়ে ক্ষমা না চাইলে প্রয়োজনে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

চা–বাগান থেকে প্রকাশিত মাসিক চা মজদুর পত্রিকার সম্পাদক সিতারাম বীন বলেন, চা–শিল্পের প্রাণই হচ্ছেন চা–শ্রমিকেরা। তাঁদের পরিচয় হলো চা-শ্রমিক। এই নামে তাঁদের সম্বোধন করা হয়। চা-শ্রমিকদের কুলি সম্বোধন করা হয়েছে। কুলি একটি আপত্তিকর শব্দ। চা-শ্রমিকদের হেয় করতেই এই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। একই প্রশ্নে লেখা হয়েছে, শ্রীমঙ্গলে ৯২টি চা–বাগান রয়েছে। এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুল। মূলত পুরো মৌলভীবাজার জেলায় ৯২টি চা–বাগান রয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী বলেন, বর্তমান সরকারি শ্রম আইনে চা–বাগানের কর্মীদের চা-শ্রমিক হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে। একটি প্রশাসনিক কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নে শ্রম আইনের পরিপন্থী শব্দ কীভাবে ব্যবহার করা হলো! এ বিষয়ে নিয়োগ পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুস্পষ্ট জবাব দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।

চা–শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম বলেন, চা–শ্রমিকদের অবজ্ঞা করে ব্রিটিশরা সামন্তবাদী বাগানব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই মনোভাব এখনো অনেকে ধারণ করেন। প্রশাসনকে এই প্রশ্ন প্রত্যাহার ও শ্রমিকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে আজ দুপুরে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব ও বিভাগীয় নির্বাচনী বোর্ডের সদস্যসচিব সুনজিত কুমার চন্দ বলেন, ‘আমি প্রশ্নপত্র তৈরি করি না। কাকে দিয়ে প্রশ্নপত্র করানো হয়েছে, সেটাও আমি জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন