default-image

ভোলার লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ গ্রামে সরকারি বরাদ্দের অন্তত ১২টি ঘর বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সচ্ছল ব্যক্তিদের ঘর দেওয়ায় তাঁরা এখন ঘরের সরঞ্জাম খুলে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে স্থানীয় লোকজন ইউএনওর কাছে অভিযোগ দেন।

ওই অভিযোগে পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও ২৫ এপ্রিল তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গত সোমবার উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে তদন্তদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ সম্পর্কে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি ঘর ভাঙা অবস্থায় পেয়েছেন। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন, ঘর দুটি মো. শাহিন ও তাঁর বাবা সালাউদ্দিনের। তাঁরা ভূমিহীন। সংস্কারের জন্য ঘর দুটি ভাঙা হয়েছে। বাস্তবে ঘর দুটি কার বা কোন প্রকল্পের, তা নথি দেখে জানতে হবে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে সরকার ভূমিহীন ও দরিদ্রদের জন্য প্রায় ২০০ ঘর বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু অনেক সচ্ছল পরিবার এসব ঘর পেয়েছে। অনেকে ঘর পেয়ে গরু-ছাগলের গোয়ালঘর বানিয়েছেন। অনেকে ঘরে থাকেন না। ভাড়া দিয়েছেন। অনেকে ওই ঘরের নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৈয়দাবাদ মহিলা মাদ্রাসার পূর্ব-দক্ষিণ পাশে একটি গুচ্ছগ্রামের ১০টি ঘর ছিল, এখন একটি ঘরও নেই। সুবিধাভোগীরা ঘরের বেড়া, চালের টিন, কাঠ, লোহার ফ্রেম বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন শুধু পিলারগুলো দাঁড়িয়ে আছে। ১৮ এপ্রিল দুটি ঘর ভেঙে বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছেন মো. শাহিন ও তাঁরা বাবা মো. সালাউদ্দিন।

গ্রামের কয়েকজন জানান, ঘরের পিলারগুলো পুকুরের দক্ষিণ পাশে রাখা হয়েছে। লোহার ফ্রেমসহ অন্যান্য মালামাল উত্তর পাশে একটি ঘরের সামনে রাখা হয়েছে। টিনগুলো রাখা হয়েছে গুচ্ছগ্রামের আরেক বাসিন্দার ঘরের সামনে।

তবে মো. শাহিনের ভাষ্য, তাঁরা ভাঙনকবলিত ভূমিহীন। তাঁদের কোনো জমি নেই। বাবার নানাবাড়ি থেকে যে জমি পেয়েছিলেন, তা বিক্রি করে পড়ালেখা করেছেন। তাঁরা বর্তমানে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক ব্যক্তির জমিতে ঘর তুলে বাস করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তাঁদের দুটি ঘর দিয়েছেন।

মো. শাহিন বলেন, সরকারি ওই ঘরের জমিটা নিচু। বর্ষায় ডুবে যায়। তাঁরা উঁচু ভিটে তৈরি করে নতুন করে ঘর বানাতে চেয়েছিলেন। এ কারণে ঘর ভেঙেছেন।

লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ঘর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল আলী শিকদার বলেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডে সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ২০০ ঘর বরাদ্দ এসেছে। এসব ঘর প্রদানে ৩-১২ হাজার করে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। তাঁদের মধ্যে অনেকেই সচ্ছল। তাঁদের অনেকে ঘর বিক্রি করে দিচ্ছেন। একই অভিযোগ করেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহাদাত হোসেন মিঞা।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, যাঁদের ঘর দেওয়া হয়েছে, তাঁরা প্রকৃতই ভূমিহীন। দুই বছর আগে তৎকালীন ইউএনও যাচাই-বাছাই করে এসব ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। ঠিকাদার ঘর নির্মাণ করেছেন। এখানে তাঁর ভূমিকা নেই বললেই চলে।

এ সম্পর্কে ইউএনও আল নোমান বলেন, গুচ্ছগ্রাম বা আবাসন, সরকারি বরাদ্দের কোনো ঘর বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। ঘর বিক্রির অভিযোগ পেয়েই তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত চলমান আছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন