পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট এম লুৎফর রহমান বলেন, আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জমাদ্দার ও সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসাইনের নেতৃত্বে পাথরঘাটা সরকারি মাছের বাজারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিন দিন ধরে ওই মাছের বাজার এনামুল হোসাইনের ব্যক্তিমালিকানাধীন বরফকল এলাকায় শুরু হয়েছে। ট্রলারমালিকদের জোর করে ওই বরফকলঘাটে নোঙর করে মাছ খালাস ও পাইকারদের মাছ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও বিএফডিসির চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাজার ফাঁকা পড়ে রয়েছে। সেখানকার একটি ঘরে জেলেরা পুরোনো জাল মেরামত করছেন। জেলেদের একজন বলেন, ‘এখানে মাছ বিক্রি হচ্ছে না। আমরা এখানে জাল মেরামত করছি। পাশের একটি বরফকলের কাছে মাছ বিক্রি করা হচ্ছে।’

পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসাইন বলেন, বিএফডিসির চেয়ারম্যান ৯ জুন পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভা করেন। ওই সভায় পার্শ্ববর্তী তালতলী উপজেলার ফকিরহাটের মৎস্য অবতরণ উপকেন্দ্র বন্ধ, পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের সরকারি টোল শতকরা ১ টাকা ২৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ৫০ পয়সায় নির্ধারণসহ ১২ দফা দাবি জানানো হয়েছিল। আট দিন পরও এ দাবি বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কারণে ১৮ জুন থেকে অন্যত্র মাছ বেচাকেনা করা হয়েছে। দাবি মেনে নেওয়া হলে তাঁরা আবারও সরকারি মার্কেটে মাছ বেচাকেনা করবেন।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলারমালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ট্রলারমালিকেরা আড়তদারদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে ব্যবসা করে থাকেন। তাই আড়তদারেরা যেখানে ট্রলার নোঙর করে মাছ খালাস করতে বলবেন, সেখানেই মাছ বিক্রি করতে হয়। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

একই কথা জানিয়েছেন পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য পাইকার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্বাস উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘মাছ যে মার্কেটে বিক্রি হবে, আমরা সেই মার্কেট থেকে মাছ কিনব। ’

পাথরঘাটার ইউএনও হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, বিএফডিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়গুলো সমাধান হবে। সমাধান তো হয়নি, বরং মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তিত। তবে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন