বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফাতেমা আকতার কাউনিয়ার কুর্শা ইউনিয়নের ধর্মেশ্বর মহেষা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। ফাতেমার বাবা মারা গেছেন। স্কুল থেকে ফাতেমাদের বাসার দূরত্ব এক কিলোমিটারের বেশি। ফোরামের কাছ থেকে স্কুলে যাতায়াতের জন্য বাইসাইকেল পেয়েছে ফাতেমা।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে (উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ) নারী জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং নারীবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়নে নারী উন্নয়ন ফোরাম গঠন করা হয়। ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। তাতে উপজেলা পরিষদের বাৎসরিক বাজেটের ৩ শতাংশ পর্যন্ত নারী উন্নয়ন ফোরামকে বরাদ্দ রাখতে বলা হয়। তবে বিষয়টি বাধ্যতামূলক না হওয়ায় অনেক উপজেলাই নারী উন্নয়ন ফোরামে এই বরাদ্দ রাখত না।

গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ নারী উন্নয়ন ফোরামের সংশোধিত পরিপত্র জারি করে। তাতে উপজেলার বাৎসরিক বাজেটের ৩ শতাংশ ফোরামকে বরাদ্দ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উপজেলা উন্নয়ন তহবিল ব্যবহার নির্দেশিকার ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এডিপির বিবিধ খাত থেকে এই বরাদ্দ দেওয়া হবে।

একটি উপজেলার সব নারী জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে উপজেলার নারী উন্নয়ন ফোরাম গঠিত হয়। পদাধিকারবলে উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি হন। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন সাতটি। প্রতিটি ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড সদস্যরা এই ফোরামের সদস্য। এই নারী জনপ্রতিনিধিরাই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। আর তাঁদের সহায়তায় রোকসানার মতো স্বামীহারা নারী ও ফাতেমা আকতারের মতো দরিদ্র পরিবারের কিশোরীরা এগিয়ে যাচ্ছে।

কাউনিয়া উপজেলার নারী উন্নয়ন ফোরাম ২০১৭-১৮ অর্থবছরে স্কুলগামী কিশোরীদের ৫০টি বাইসাইকেল দেয়। এরপরের অর্থবছরের উপজেলা পরিষদ নারী ফোরামের বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে ৪৮০টি বাইসাইকেল দেয়। গত অর্থবছরে নারী উন্নয়ন ফোরাম ২২ জন নারীকে সেলাই মেশিন আর ২৭ জন কিশোরীকে বাইসাইকেল দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফোরামের সভাপতি ও কাউনিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আঙ্গুরা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বরাদ্দ সরাসরি নারী উন্নয়ন ফোরামের নামে দেওয়া হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অগ্রাধিকার থাকবে। এই বরাদ্দ খরচের সর্বময় এখতিয়ার ফোরামকে দিতে হবে।’

নারী উন্নয়ন ফোরাম গঠন এবং বরাদ্দ নিশ্চিতে কাজ করছে ‘কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার (ইএএলজি)’ প্রকল্প। দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ৬৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকার এই প্রকল্পে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে রয়েছে ইউএনডিপি, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও ডেনমার্ক দূতাবাস।

ফরিদপুর, চাঁদপুর, রাজশাহী, খুলনা, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ, রংপুর, নেত্রকোনা ও কক্সবাজার জেলার ১৮টি উপজেলা এবং ২৫১টি ইউনিয়ন পরিষদে ইএএলজি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি, স্থানীয় সেবার মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, নারী উন্নয়ন ফোরাম করা হয়েছিল নারীদের মূলস্রোতে আনার জন্য। পরিষদে নারীরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, এটি ছিল মূল লক্ষ্য। কিন্তু শুধু ৩ শতাংশ বরাদ্দ পাওয়া আর সেলাই মেশিন ও বাইসাইকেল কিনলে নারীর ক্ষমতায়ন হবে না। নারী উন্নয়ন ফোরামকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রান্তিক নারীদের সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন