default-image

ভোলার লালমোহন উপজেলার ১০৪ বছরের পুরোনো লর্ড হার্ডিঞ্জ ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার নিজস্ব কোনো ভবন নেই, তবে জায়গা আছে। অভিযোগ উঠেছে, লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি)–এর আওতায় পাওয়া ৫ লাখ টাকা দিয়ে সেই জমিতে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। সেই ভবনের নিচতলায় করা ২০টি কক্ষ ভাড়া দিয়ে টাকা তুলছেন তিনি।

জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ফারুক আল মামুন জানিয়েছেন, এলজিএসপির টাকায় গড়া ভবন থেকে চেয়ারম্যান ভাড়া দিতে পারেন না। বিষয়টি তিনি তদন্ত করবেন। আর ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, ভবনটি করতে তিনি নিজের ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।

সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লর্ড হার্ডিঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসাটি ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৭ সালে মাদ্রাসার পাশে লর্ড হার্ডিঞ্জ ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমানে একই স্থানে মসজিদ, মক্তবসহ তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে থাকা ৪ একর ৯৭ শতাংশ জমি তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হয়ে মাদ্রাসার নামে আছে প্রায় দেড় একর। এর মধ্যে মাদ্রাসার মাঠ, ঘর, পুকুর-ডোবা ও বাজার আছে। কিছু জমি সড়কে চলে গেছে। এই সড়কের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে ভবনটি।

২০১৬ সালে মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে চুক্তি করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে দেন লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম। ওই ভবনের নিচতলার বাজারমুখী ২০টি কক্ষ ব্যবসায়ীদের ভাড়া দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর দোতলার সাতটি কক্ষ ব্যবহার করছে মাদ্রাসা। একটি ঘর থেকে মাসে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

ভোলা জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকার বিভাগের এলজিএসপি-৩ সূত্র জানায়, লর্ড হার্ডিঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ করতে এলজিএসপির তহবিল থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপরও মাদ্রাসার পাঠাগার ও ভবন উন্নয়নে এলজিএসপি টাকা দিয়েছে। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মাদ্রাসা কমিটির কাছে বিষয়টি গোপন রেখেছেন।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর মাদ্রাসার নামে একটি চারতলা ভবন বরাদ্দ দেয়, যার কাজ দু–তিন মাস আগে শুরু হয়েছে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ইউসুফ বলেন, মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়। মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. মহিবুল্যাহও একই কথা বলেন। তবে প্রথমে তিনি চুক্তির বিষয়টি অস্বীকার করেন, পরে বলেন, মাদ্রাসার ফান্ড নেই, তাই বাধ্য হয়ে চুক্তি করেছেন।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র দাস বলেন, মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি যে চুক্তি করেছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ রকম করার কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে মাঠে ক্লাস করত। তখন মাদ্রাসা কমিটির লোকজন প্রস্তাব দেন, যিনি ভবন তৈরি করে দেবেন, তাঁকে নিচতলা মার্কেটের জন্য দেওয়া হবে। তাঁর দাদা হাজি সৈয়দ আহম্মদ এ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই দরদে তিনি এগিয়ে আসেন।

এলজিএসপির টাকায় ভবন করার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, ‘৩০ লাখ টাকায় ভবনটি নির্মাণ করেছি। আর ঘর ভাড়া দিয়ে সামান্যই আয় হচ্ছে।’

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0