বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভোলার জনপ্রতিনিধি, প্রবীণ ব্যক্তি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পেতে ১৯৭২ সালে ভোলার মূল ভূখণ্ডের চারদিকে বিস্তৃত ২৭০ কিলোমিটার মাটির বাঁধ তৈরি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৩৫০ কিলোমিটার। ‘শেখের বেড়ি’ হিসেবে পরিচিত ওই বাঁধ সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে সরু, নিচু ও ভঙ্গুর হয়ে গেছে। ১৯৭২ সালের পর অনেক ইউনিয়ন ও গ্রাম ভোলার মানচিত্র থেকে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমান নদী তীর থেকে কোথাও কোথাও সেসব জলসীমার দূরত্ব ছিল প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানান, গত ৫১ বছরে ভোলা হারিয়েছে প্রায় ২৫১ বর্গকিলোমিটার জমি। ভাঙন প্রতিরোধে কিলোমিটারপ্রতি ১০০ কোটি টাকা খরচ করে ২৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার আধুনিক ব্লকবাঁধ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে পাঁচটি প্রকল্পের আওতায় আরও ২২ কিলোমিটার তীরে ব্লকবাঁধ তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু শেখের বেড়ির আধুনিকায়ন হয়নি। বিভিন্ন সরকারের আমলে খণ্ডিতভাবে বাঁধ সংস্কার করেছে। ফলে বাঁধটি দুর্বল রয়ে গেছে।

পাউবো আরও জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে জোয়ারের উচ্চতা বেড়েছে। এ উচ্চতা নদী থেকে প্রায় ৫ মিটার। এ অবস্থায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রশস্ততা ও উচ্চতা বাড়িয়ে বাঁধ সংস্কার জরুরি। কিন্তু ৩৫০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৫০ কিলোমিটারে এ রকম ঢাল সংরক্ষণ হয়েছে। বাকি ৩০০ কিলোমিটার বাঁধ নিচু ও অপ্রশস্ত। এগুলোর অধিকাংশই ব্যক্তিগত দখলে ও অরক্ষিত।

দৌলতখান উপজেলার মদনপুরের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মদনপুরের চারপাশে বাঁধ দিলে জমি হবে তিন ফসলি, পুকুরগুলোতে মাছের আবাদ বৃদ্ধি পাবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বৃদ্ধি পাবে। এখন প্রায় প্রতিবছর জোয়ারের সঙ্গে লবণাক্ত পানি ওঠায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।

মনপুরা উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, জলোচ্ছ্বাসে লবণাক্ত পানি উঠে কলাতলীর ৩০ হাজার মানুষ সেচসংকটে পড়েছেন। পানির অভাবে সবজি খেতের গাছ মরে যাচ্ছে।

১৯৭০ ঘূর্ণিঝড়ে ৯১ জন স্বজন হারানো দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া বাঁধে বসবাসকারী আবদুল মালেক (৭৪) বলেন, ‘সরকার আসে সরকার যায়, ভোলা রক্ষায় টেকসই বাঁধ হয় না। আমরা আশা করব, ভোলাবাসীর চোখের পানি ঘুচবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে শেখের বেড়িকে সম্পূর্ণতা দিতে যথাযথ পরিকল্পনা নেওয়া হোক।’

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাসান ওয়ারিসুল কবির বলেন, ভোলার চারপাশে মেঘনা, তেঁতুলিয়া, সাগর মোহনার মধ্যে জেগে ওঠা চরাঞ্চলে কৃষকেরা হেক্টরপ্রতি ৬-৭ লাখ টাকা ব্যয় করে ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি, তরমুজ-বাঙ্গির মতো দামি সবজিসহ আগাম সবজি, ডাল ও মসলাজাতীয় ফসলের আবাদ করছেন। এসব চরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় হঠাৎ আসা জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস ফসলের ক্ষতি করছে। ঋণগ্রস্ত কৃষক আরও ঋণী হচ্ছেন। বাঁধ দিলে জেলায় লক্ষাধিক হেক্টর জমি তিন ফসলি জমিতে রূপ নেবে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার বলেন, ভোলা সদর উপজেলায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার, দৌলতখানে ৬ কিলোমিটার, বোরহানউদ্দিনে ৭ কিলোমিটারসহ প্রায় ১০০ কিলোমিটার মেঘনা তীরে ব্লক ফেলে জরুরি সংরক্ষণ দরকার। কিছু প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এগুলো অনুমোদন পেলে ভাঙনের সমস্যা সাময়িকভাবে দূর হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন